পায়, আবার পায় না। ল্যান্ডমার্ক কোর্টের রায় যা মৃত তারেক মাসুদ এর পরিবারকে ৪.৬১ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে তা  একটি মজার প্রসঙ্গে পরিণত হয়েছে । এই মামলাটি  নিজেই  সড়ক দুর্ঘটনার অন্যান্য ঘটনার থেকে একটি ভিন্ন মোড় নিয়েছে ।

তার স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ ২০১৩ সালে, প্রথমে ৭.৭৬ কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে ১০ কোটি টাকার একটি মামলা দায়ের করেন বাস কোম্পানী, বাস চালক এবং রিলায়েন্স বীমা কোম্পানীর বিরুদ্ধে । মোটর ভেহিক্যাল অধ্যাদেশ ১২৮ যা সড়ক দুর্ঘটনায় আহত কিংবা নিহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দাবী করবার সুযোগ দেয়, এর অধীনেই উক্ত মামলাটি দায়ের করা হয়েছে ।

এই আইন সবার জন্য প্রযোজ্য । সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ যে কেউ জেলা আদালতের মাধ্যমে এই দাবী করতে পারেন । মাসুদের কেইস দায়ের করা হয়েছিলো মানিকগঞ্জে । তারেক মাসুদের মামলার রায়ে আদালত পর্যবেক্ষণ দিয়েছে যে এই কেইসটি সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষতগ্রস্থ ব্যক্তিদের জন্য একটি মানদণ্ড হিসেবে কাজ করতে পারে – যা ক্ষতিগ্রস্থদের, ক্ষতিপূরণ দাবী করবার আইন সম্পর্কে সচেতন করে তুলবে । আদলত পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন যে গাড়ির মালিকগণ গাড়ির চালকগণের মতনই অপরাধী।

এখান থেকেই ঘটনার মোড় ভিন্ন দিক নিলো । তারেক মাসুদের কেইসটি সুপ্রীম কোর্টের উচ্চ আদালত বিভাগ গ্রহণ করলো, এমন ঘটনা সকল মামলার বেলায় ঘটে না । মাসুদের আইনজীবী ড. কামাল হোসেন এবং তার সহকারীরা সংবিধানের ১১০ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মামলাটি হাইকোর্টে নেওয়ার জন্য আবেদন করেন । সংবিধানের এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, উচ্চ আদালত যদি মনে করেন যে, এই মামলাটি সাধারণ জনগণের জন্য গুরুত্ব বহন করে তবেই এরকম ঘটতে পারে । জনপ্রিয় ব্যক্তি হিসেবে তারেক মাসুদের ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ পরিবহন মালিকগণ যেই ধরনের আরাম বা অব্যাহতি উপভোগ করেন তা এই মামলাটিকে জনগণের গুরুত্বের এক উদাহরণ দাঁড় করিয়েছে ।

যে করেই হোক, ২০০৯ সাল থেকে দেশে রাস্তায় বছরে গড় মৃত্যুর হার ২৫০০ হয়েছে । এটা অসম্ভব যে সকল সড়ক দুর্ঘটনার মামলা নিম্ন আদালত ফয়সালা করবেন ।

তাহলে ৪ কোটি টাকা ?

সংখ্যা ভিন্ন কথা বলে । তারেক মাসুদে মামলার রায় দেওয়ার সময় আদালত পর্যবেক্ষণ দেন যে, ক্ষতিপূরণ দাবী করার ক্ষেত্রে অর্থের পরিমাপ মামলার এর ধরনের উপর নির্ভর করে , তবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যগণ যেই ভালোবাসা ও আশ্রয় থেকে বঞ্চিত হন তার ক্ষতিপূরণ সকলের ক্ষেত্রে একই হবে । তারেক মাসুদের পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ মাইক্রোবাস এবং এই দুর্ঘটনায় ক্যাথিরিনের স্বাস্থ্য , বিশেষ করে তার দৃষ্টিশক্তির যেই ক্ষতি করেছে তার ক্ষতিপূরণ এর দাবি জানিয়েছেন ।

টাকা কি সত্যিকার অর্থেই দেওয়া হবে?

২৭ বছর আগে একই রকম একটি সড়ক দুর্ঘটনায় দৈনিক সংবাদপত্রের এক সম্পাদকের মৃত্যুতে ইতিবাচক রায় পেয়েছিলেন। গণমাধ্যম অনুযায়ী মৃত মোজাম্মেল হোসেন মন্টু এর পরিবার ১.৬৯ কোটি পাবার কথা থাকলেও প্রকৃতপক্ষে তারা এখনো তা বুঝে পাননি।

  • Read in English

Total
35
Shares

Leave a Reply

fact-watch