সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে প্রচারিত বিভিন্ন খবর দাবি করে থাকে যে ই-সিগারেট বা ইলেকট্রনিক সিগারেট ব্যবহারের কারণে পপকর্ন ফুসফুস নামের রোগ হয়ে থাকে। যদিও ই-সিগারেটকে বাজারে প্রচলিত সিগারেটের চেয়ে নিরাপদ বলে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়, তার পরেও অনেকেই দাবি করে থাকেন যে এটি আসলে ক্ষতিকর।

ডিসকভার নিউজ নামের একটি পত্রিকা “ প্রমাণিত: ই-সিগারেট অনিরাময়যোগ্য রোগ পপকর্ন ফুসফুস ঘটিয়ে থাকে যা কিনা ফুসফুস ক্যান্সারের চেয়েও মারাত্মক” শিরোনামে একটি খবর প্রচার করে। ভাইরাল হওয়া এই খবরটি হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথ এর পরিবেশগত স্বাস্থ্য বিভাগ এর সহকারী অধ্যাপক জোসেফ জি এলেন এর নেতৃত্বে আরও গবেষকদের সাথে ২০১৫ সালে একটি গবেষণা করেন। যেখানে তিনি দেখান যে ফ্লেভারড ই-সিগারেটে আসলেই ডায়াটিটিল, এসিটিওন এবং ২, ৩-প্যান্টেইডিওন এর মত রাসায়নিক আছে কিনা।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর অকোপেশনাল সেফটি অ্যান্ড হেলথ এর গবেষকেরা দেখিয়েছেন যে ইদুরকে যদি পপকর্ন ফ্লেভারিং এবং ডায়াটিটিল এর সংস্পর্শে রাখা হয় তাহলে তাদের ফুসফুসের বাতাস প্রবাহের টিস্যুতে মারাত্মক ক্ষতি হয়। এই গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে বিশুদ্ধ ডায়াটিটিল ধোয়া পপকর্ন ফ্লেভারিং রাসায়নিক এর মতই ক্ষতিকর।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর অকোপেশনাল সেফটি অ্যান্ড হেলথ এর গবেষণায় গবেষকেরা দেখিয়েছেন যে ফ্লেভারিং আসলে একটি জটিল রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মিশ্রন। আর যেহেতু এসব রাসায়নিকগুলোকে শ্বাস-প্রশ্বাস এর মাধ্যমে গ্রহনের ফলে কি ফল হবে সেই ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয় নি তাই শুধুমাত্র ডায়াটিটিল কে শ্বাস-প্রশ্বাস এর সাথে গ্রহনের ফলেই ফুসফুসের সমস্যা হচ্ছে কিনা তা বলা সম্ভব নয়। ডায়াটিটিল ছাড়াও আরও রাসায়নিক থাকতে পারে যারা শ্বাস-প্রশ্বাস এর সমস্যার জন্য দায়ী।

হার্ভার্ড গবেষকেরা তাদের গবেষণায় দেখিয়েছেন যে ই-সিগারেট ব্যাবহারকারীরা অনেক ক্ষতিকর রাসায়নিক এর সংস্পর্শে আসে যা নিঃশ্বাসের সাথে গ্রহন করলে ফুসফুসের স্বাস্থের ওপর বিরাট ঝুঁকি তৈরি হয়। সেন্টার ফর টোব্যাকো প্রডাক্ট এর এফডিএ গবেষক প্রিসিলা কলাহান-লায়ান এবং মাইকেল এস আরর তাদের পৃথক গবেষণায় দেখিয়েছেন যে ই-সিগারেট ব্যাবহারকারীরা সাধারণ সিগারেট ব্যবহারকারীদের চেয়ে কম ক্ষতিকর রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসে। কিন্তু এ বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব নয়।

পিএলওএস ওয়ান জার্নাল এ ২০১৬ সালের মার্চ মাসের আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে যে দক্ষিণ কোরিয়ার হাই-স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা ই-সিগারেট ব্যাবহার করে তারা সাধারনত শ্বাসকষ্টে ভুগে থাকে। এছাড়াও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর অকোপেশনাল সেফটি অ্যান্ড হেলথ আরও বলেছে যে “এই মুহূর্তে এটা বলা সম্ভব নয় যে ই-সিগারেট সাধারণ সিগারেট ছাড়তে সহায়তা করে কিনা। এমনও হতে পারে যে ই-সিগারেট নিকোটিন আসক্তিকে বাড়িয়ে স্থায়ী অভ্যাসে পরিণত করে সিগারেট ছাড়ার প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে পারে।”

এই মুহুর্তে আমাদের সামনে যত গবেষণা আছে তাতে এটা বলা সম্ভব না যে আসলেই ই-সিগারেট পপকর্ন ফুসফুস তৈরি করে কিনা বা সিগারেট ছাড়তে সাহায্য করে কিনা। তবে এটা নিশ্চিত যে, ই-সিগারেট ক্ষতিকর, বিশেষ করে বাচ্চা এবং কিশোরদের জন্য।

 

  • Read in English

Total
9
Shares

Leave a Reply

fact-watch