বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দী হবার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি সমর্থকরা পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু বিএনপি কি আসলেই কোনো সহিংস আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলো? নেতাকর্মীদের দাবি তারা কোনোপ্রকার সহিংস আন্দোলনের ডাক দেননি।

চলতি বছর ফেব্রুয়ারির নয় তারিখে বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দী হবার ঘটনাকে কেন্দ্র করে করা আন্দোলন থেকে ২০০ নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। জনপ্রিয় ইংরেজি পত্রিকা দ্যা ডেইলি স্টার-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটকের বেশিরভাগ ঘটনা ঘটে যখন বিএনপির নেতা-কর্মীরা ঢাকা শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে মিছিলের চেষ্টা চালায়। বিক্ষোভ প্রদর্শনকারী একটি দলকে আটক করা হয় যখন তারা খালেদা জিয়াকে বহন করা গাড়িবহর বকশিবাজার কোর্টের দিকে যাওয়ার সময় তাতে যোগ দেবার চেষ্টা চালায়। আরেকটি দলকে আটক করা হয় ফকিরাপুলে বিএনপির মূল কার্যালয় অভিমুখে করা মিছিল থেকে। পার্টি অফিস থেকে বের হওয়া আরেকটি মিছিলও পুলিশের বাধার মুখে পরে।

আটকের ঘটনা ঘটেছে ঢাকার বাইরেও। টাঙ্গাইলে পুলিশ বিএনপির মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে গেলে পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে আহত হয় ১০ জন। নারায়ণগঞ্জে যুবদলের মিছিল থেকে চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সবগুলি বিক্ষোভ মিছিল থেকে আটকের প্রধাণ কারণ হিসেবে পুলিশ জানিয়েছে যে আন্দোলনকারীরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছিলো। অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশ তাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বাধা দেয়। ঘটনার একদিন আগে ফেব্রুয়ারির আট তারিখে ঢাকা শহরে সকল প্রকার মিছিল এবং বিক্ষোভ-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে ঢাকা মহানগর পুলিশ।

আটকের আগে করা এক সংবাদ সম্মেলনে বেগম খালেদা জিয়া দলীয় সকল নেতা-কর্মীকে কোনপ্রকার সহিংস আন্দোলনে যেতে নিষেধ করেন। আরেকটি প্রেস কনফারেন্সে বিএনপির মহাপরিচালক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের প্রতিশ্রুতি দেন।

তবে বাসে আগুন দেবার একটি ঘটনা ঘটে সাতক্ষীরায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১৬ জন বিএনপি নেতাকর্মীর নামে মামলা করে পুলিশ। লন্ডনে বাংলাদেশ হাই কমিশনে প্রবেশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ছিঁড়ে ফেলে কয়েকজন বিএনপি সমর্থক।

দ্যা ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী বিএনপির নেতাকর্মীরা সহিংস আন্দোলনের আহ্বান না জানালেও ঢাকা ট্রিবিউনের  একটি প্রতিবেদনে বলা হয় যে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী সহিংস আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নাম-পরিচয় গোপন রেখে একজন ছাত্রদল কর্মীর বরাতে তারা লিখেছে, “বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী পার্টি হাই কমান্ডের দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করবেন। তবে পুলিশ বা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বাধা সৃষ্টি করলে তারা সহিংস আন্দোলনের দিকে যাবেন।”

 

  • Read in English

Leave a Reply

fact-watch