এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর থেকে নারী ক্রিকেট দলকে নিয়ে হচ্ছে অনেক আলোচনা। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই আলোচনার একটি দিক হলো, বাংলাদেশ পুরুষ এবং নারী ক্রিকেট দলের বৈষম্যমূলক বেতন কাঠামো। বলা হচ্ছে, নারী দলের সদস্যদের ম্যাচ ফি'র প্রায় ১০০ গুণ পান পুরুষ দলের সদস্যরা।

দশ তারিখ বিকেলবেলা বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল যখন মালয়শিয়ার কুয়ালালামপুরে ভারতের বিপরীতে ম্যাচের একেবারে শেষপ্রান্তে ছিলো, ঠিক সেই সময় সাকিব-তামিমদের ড্রেসিংরুমে চলছিলো নারী দলের ভারতবধের প্রতীক্ষা। খেলা শেষ হওয়ামাত্রই সবাই উল্লাসে ফেটে পড়ে, এমনটাই দেখা যায় সৌম্য সরকারের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে আপলোড করা ভিডিওতে।

ম্যাচ শেষ হবার সাথে সাথে পুরো দেশ উদযাপনে নেমে পড়ে। সালমাদের এই অর্জনে ইতোমধ্যেই তাদের প্রশংসা করা হয়েছে জাতীয় সংসদে, ঘোষণা করা হয়েছে অর্থ পুরস্কার। আর সেইসাথে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে নারী ক্রিকেট দলের বেতন ভাতা এবং ম্যাচ-ফি সংক্রান্ত বিভিন্ন ছবি এবং লেখা। সেসব ছবি ও লেখাতে বেতনকাঠামো নিয়ে বৈষম্যের ব্যাপারটি স্পষ্ট। কিন্তু এটি কি আসলেই সত্যি?

দেশের জনপ্রিয় ইংরেজি সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নারী ক্রিকেটাররা প্রতিটি ঘরোয়া লীগের খেলার জন্য পান মাত্র ৬১০ টাকা করে, যা পুরুষ ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে ৫০,০০০ এ গিয়েও ঠেকে। অন্যদিকে একুশে টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী নারী ক্রিকেটাররা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ম্যাচে ফি হিসেবে পায় ৮ হাজার টাকা করে। বিসিবির ওয়েবসাইট অনুযায়ী পুরুষদের ক্ষেত্রে যার পরিমাণ ৭৫,০০০ থেকে ২,০০,০০০ টাকা।

অন্যদিকে বিসিবির ওয়েবসাইটে থাকা বেতন কাঠামো বিশ্লেষণ করলে করলে দেখা যায়, পুরুষ এবং নারী উভয় ক্রিকেট দলেরই রয়েছে বেতন নির্ণয়ে ভিন্ন ভিন্ন “ক্যাটাগরি”। যেখানে পুরুষদের দলে “এ+” নামক সর্বোচ্চ ক্যাটাগরিতে থাকা একজন খেলোয়াড় মাসে চার লক্ষ টাকা করে বেতন পাচ্ছেন সেখানে নারী ক্রিকেটারদের মাসিক বেতন “এ” ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা। যা “সি” ক্যাটাগরিতে নেমে ১০ হাজার টাকায় গিয়েও ঠেকে।

উপরের ভিডিও: খেলা দেখছেন বাংলাদেশ জাতীয় (পুরুষ) দলের খেলোয়াড় এবং অন্যান্যরা, সৌম্য সরকারের ফেসবুক পোস্ট

বেতন বৈষম্যের ব্যাপারটি ব্যাখ্যা করার ছলে স্বীকার করে নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও; উইমেন্স উইং-এর সভাপতি শফিউল আলম চৌধুরী অবশ্য দায়ের পুরোটাই দিয়েছেন অন্যদের, বোর্ডের দায় নেননি। নারী ক্রিকেটারদের এই বৈষম্যমূলক বেতন কাঠামোর পেছনে স্পন্সরশিপের অভাবকেই দায়ী করছেন শফিউল আলম চৌধুরী। দ্যা ডেইলি স্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “স্পন্সররা সেভাবে করে নারীদের দলের ব্যাপারে আগ্রহ দেখান না। তারা সবসময় এমন কিছুতে টাকা ঢালতে চান যেটা থেকে র্দীঘ মেয়াদে তাদের ভালো ফলাফল পাবার একটি সম্ভাবনা রয়েছে।”

ফ্যাক্ট-ওয়াচের গবেষণায় নারী ক্রিকেটার এবং পুরুষ ক্রিকেটারদের বৈষম্যমূলক বেতন কাঠামো সংক্রান্ত আলোচনা, ফেসবুক পোস্ট এবং তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখা যায়, বেতনে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের দাবিটি সত্য।

 

 

  • Read in English

Total
19
Shares

Leave a Reply

fact-watch