উটপাখির ব্যাপারে একটি জনপ্রিয় ধারণা হলো, বিপদ আঁচ করার সাথে সাথে তারা নিজেদের মাথা মাটির ভেতর ঢুকিয়ে ফেলে। কেবল ধারনাই নয়, মানুষের চরিত্র বুঝাতেও উটপাখির ঐ বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করা হয় সমাজে। “অস্ট্রিচ ইফেক্ট” নামে একটা তত্ত্বও প্রচলিত খুব।

বাস্তবে উটপাখির এমন আচরণ সংক্রান্ত ধারণাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং যুক্তিহীনও। প্রথমত, ভয় পেয়ে মাটির নিচে মাথা ঢুকিয়ে ফেললে নিঃশ্বাস নিতে পারবে না প্রাণীটি। দ্বিতীয়, উটপাখি ঘণ্টায় প্রায় ৪০ মাইল পর্যন্ত গতিতে ছুটতে সক্ষম। প্রতি ঘণ্টায় ৩০ মাইল গতিতে টানা ১০ মাইল দৌড়াতে পারে এই প্রাণী। এরকম গতিসম্পন্ন একটি প্রাণী ভয় পেয়ে মাটিতে মাথা ঢুকিয়ে বসে থাকবে, ব্যাপারটি মোটেও বিশ্বাসযোগ্য নয়।

দ্রুতগতিসম্পন্ন হবার পাশাপাশি অসট্রিচ বা উটপাখি বেশ আক্রমণাত্মকও বটে। সাধারণত নয় ফিট লম্বা আর সাড়ে তিনশো পাউন্ড ওজনের হয় একেকটি উটপাখি। কোনো কারণে বিপদে পড়লে পা ব্যবহার করে তারা যে লাথিটা মারবে সেটি সহ্য করার ক্ষমতা প্রাণীজগতের খুব কম প্রাণীরই আছে। সান ডিয়োগো চিড়িয়াখানার তথ্য অনুযায়ী, উটপাখির লাথি খেয়ে সিংহের মতন প্রাণীও মৃত্যুবরণ করতে পারে।

নিজেকে বিপদ থেকে রক্ষার বা বিপদ থেকে দৌড়ে পালানোর সকল ক্ষমতাই রয়েছে উটপাখির। অথচ তাদেরকেই বিপদ দেখলে বোকার মতন মাথা মাটির ভেতরে ঢুকিয়ে ফেলার অপবাদটা দেওয়া হচ্ছে। এই তথ্যের শুরুটা কোথায় হয়েছে সেটি নিশ্চিতভাবে বলা না গেলেও উটপাখি সম্পর্কে আরেকটি তথ্য পাওয়া যায়, যেটি হয়তো এমন অদ্ভুত ধারণার পেছনের ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম।

আমেরিকান অসট্রিচ অ্যাসোসিয়েশন-এর তথ্য অনুযায়ী, বংশবৃদ্ধির সময় আসলে পূর্ণবয়স্ক উটপাখি মাটিতে ৬-৮ ফিট প্রস্থের ২-৩ ফিট গভীর গর্ত তৈরি করে তাতে ডিম পাড়ে। উটপাখি গর্তে ডিম পাড়ার পর সেটিকে মাটি চাপা দিয়ে দেয়। তারপর বাবা এবং মা উটপাখি দুজনই পালাক্রমে ডিম ফোঁটার আগ পর্যন্ত তা দেয়। দিনে কয়েকবার বাবা এবং মা উটপাখি মাটির ভেতর মাথা ঢুকিয়ে নিজেদের ঠোঁট ব্যবহার করে ডিমগুলোকে উল্টে দেয়, যাতে সবদিকে সমান পরিমাণে তাপ লাগে।

সান ডিয়েগো চিড়িয়াখানায় উটপাখি নিয়ে থাকা পাতায় আরেকটি মজার তথ্য পাওয়া যায়। উটপাখি সাধারণত বিপদ আঁচ করতে পারলে পালিয়ে যায়। শান্তশিষ্ট এই প্রাণীটি নিতান্ত বাধ্য না হলে নিজে থেকে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে না। যখন পালাতে পারে না তখন তারা মাটির উপর সোজা হয়ে বসে পরে। লম্বা মাথাটিকে শরীর বরাবর সামনা-সামনি রেখে দেয়। উটপাখির মাথা এবং গলা হালকা রংয়ের হওয়ায় সহজেই তারা মাটির রংয়ের সাথে মিশে গিয়ে শত্রুকে ধোঁকা দিতে পারে। তবে দূর থেকে অনেকসময় শরীরটা দেখা যায় এবং মাথা সামনের দিকে ঝুঁকে থাকায় মনে হয় মাথাটি মাটির ভেতর ঢুকে আছে।

 

  • Read in English

Total
7
Shares

Leave a Reply

fact-watch