সম্প্রতি অনলাইন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ কিছু সংবাদ এবং ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে যেগুলো দাবি করছে করোনাভাইরাস আমাদের দেশের গ্রীষ্মের উত্তাপে মারা যেতে পারে। কেউ কেউ দাবি করছে যে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা করোনাভাইরাসের প্রকোপ কমিয়ে দিতে পারে এবং আগত গ্রীষ্মের ক্রমবর্ধমান তাপ চূড়ান্তভাবে এই মহামারীটির অবসান ঘটাবে। তবে এই দাবিগুলোর স্বপক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্যনির্ভর প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য অসচেতনতার পাল্লাই ভারী করে তুলছে।

বিশ্বগণমাধ্যম আল-জাজিরা একটি সংবাদ নিবন্ধ প্রকাশ করেছে যেখানে তারা হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর জন নিকোলসের বরাত দিয়ে বলেছে, “সূর্যের আলো ভাইরাসটির বৃদ্ধির ক্ষমতা অর্ধেক কমিয়ে দেয়ায় ভাইরাসটির অবশিষ্ট আয়ুষ্কাল হবে আড়াই মিনিট, যা অন্ধকারে প্রায় ১৩ থেকে ২০ মিনিট পর্যন্ত। সূর্যের আলো যেকোনো ভাইরাস ধ্বংস করার ক্ষেত্রে খুবই ভালো কাজ করে।“

তবে নির্মম হলেও সত্য এই যে, নতুন এই ভাইরাসটির ওপর বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত করা পরীক্ষা-নিরীক্ষা এটি নিশ্চিত করছে না  যে গ্রীষ্মের তীব্র গরমে ভাইরাসটি মারা যায়। তবে কিছু গবেষক ইতিমধ্যে সনাক্ত করেছেন যে ৫৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তারও বেশি তাপমাত্রায় ভাইরাসটি দূর্বল হতে পারে।

ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (ডাব্লুএইচও) এর একটি নিবন্ধ বলছে, “৫৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা প্রতি ১৫ মিনিটে প্রায় ১০,০০০ ইউনিট করোনার ভাইরাস মেরে ফেলতে পারে।” ডাব্লুএইচও অনুসারে, মলমূত্রে এই ভাইরাসটি ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ১ থেকে ২ দিন টিকে থাকতে পারে। ডায়রিয়া হলে এই সময়কাল ৩ থেকে ৪ দিন পর্যন্ত হতে পারে।

ম্যাসাচুসেটস ইনসটিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি)-র একটি গবেষণায় দেখা যায় যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি ঘটেছে ৩ থেকে ১৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে। গবেষক কাসিম বুখারী বলেন, কম তাপমাত্রায় রোগাক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। ইউরোপে উন্নত চিকিত্সা সেবার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আমরা সেটা দেখেছি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও শীতপ্রধান নিউ ইয়র্ক বা ওয়াশিংটনে সংক্রমণের সংখ্যা গ্রীষ্মপ্রধান আরিজোনা, ফ্লোরিডা এবং টেক্সাসের চাইতে অনেক দ্রুত বেড়েছে। অন্যান্য কিছু গবেষণাতেও করোনাভাইরাসের একটি মৌসুমী প্রবণতা দেখা গেছে। কিন্তু ড. বুখারীর মতে একেক দেশে এই ভাইরাসের গতিবিধি একেক ধরনের হবার পেছনে তাপমাত্রা ছাড়াও অন্যান্য অনেক বিষয় রয়েছে এবং এই গবেষণাগুলি এখনও প্রারম্ভিক পর্যায়ে রয়েছে। এতে করে কারও নিরাপদ বোধ করার কোনো সুযোগ নেই।

পরিসংখ্যান এবং এখন পর্যন্ত হওয়া গবেষণাগুলো এমন কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি যা প্রমাণ করে গ্রীষ্মের উচ্চতাপে কোভিড – ১৯ মহামারীটি থেমে যাবে। গরমের কারণে সংক্রমণের গতি কমে গেলেও তা থেমে যায় না। অতএব, গ্রীষ্মের উত্তাপ আমাদেরকে বাঁচাতে পারবে এটা মিথ্যা। আমাদের সকলকেই কোভিড – ১৯ এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সচেতন হতে হবে এবং সমস্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

  • Read in English