Image Credit: UNB

গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে বায়ুদূষণের উচ্চ মাত্রা এবং দুষিত বায়ুতে দীর্ঘ সময় বসবাসের ফলে কোভিড-১৯ রোগাক্রান্তদের মৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়। বিশ্বজোড়া লকডাউন বায়ু দূষণ কমিয়ে আনলেও ঢাকার বাতাসের মান এখনো বিপদজনক পর্যায়েই রয়েছে, সেইসাথে রয়েছে ঢাকাবাসীদের শ্বাসতন্ত্রে এতদিনের দূষণের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব। ফলে করোনাভাইরাস মহামারিতে ঢাকাবাসীর মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে অত্যধিক বায়ুদূষণ।


বিশ্বব্যাপী সংগৃহিত উপাত্তের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই সুবিদিত যে দুষিত বায়ুঘটিত ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের রোগ প্রতি বছর আশি লক্ষেরও বেশি  অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী। বোস্টনের হার্ভার্ড টিএইচ চ্যান স্কুল অফ পাবলিক হেলথের গবেষণায় সমগ্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এলাকাভিত্তিক দূষণের তারতম্যের পরিপ্রেক্ষিতে দেখা গেছে, অপেক্ষাকৃত কম বায়ুদুষিত অঞ্চলে বাসকারীদের তুলনায় অধিক দূষিত অঞ্চলে বসবাসকারীদের কোভিড-১৯ এ মারা যাবার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

এই গবেষকদের মতামত: বায়ুদূষণের কারণে যাদের দীর্ঘমেয়াদী শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের ব্যধি এবং হৃদরোগ দেখা দিয়েছে বা আরও গুরুতর আকার ধারণ করেছে, তাদের পক্ষে ফুসফুসের যেকোন সংক্রমণ থেকে বেঁচে ওঠা কঠিন।কোভিড-১৯-ও তার ব্যতিক্রম নয়।

তারা দেখিয়েছেন যে ক্ষুদ্র বিপজ্জনক কণা (পিএম ২.৫ নামে পরিচিত) বাতাসে প্রতি বর্গমিটারে ১ গ্রাম বেড়ে গেলেই তাতে কোভিড-১৯ এ মৃত্যুহার ১৫% বেড়ে যায়। এধরণের দুষণে দীর্ঘমেয়াদী বসবাসের ফলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায় ২০ গুণ।

লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালইয়ের অধ্যাপক জোনাথন গ্রিগ বলেছেন, “গবেষণাটি পদ্ধতিগতভাবে সুদৃঢ় এবং প্রশংসনীয় ছিল, তবে এর কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ধূমপানের মতো গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলি পৃথকভাবে পরিমাপ করা হয়নি।“

একই ধরণের প্রমান পাওয়া গেছে ইতালিতে। ইতালির বিজ্ঞানীরা তাদের একটি প্রতিবেদনে উল্ল্যেখ করেছেন যে, ইতালির উত্তরাঞ্চলে কোভিড-১৯ জনিত উচ্চ মৃত্যুর হার বায়ু দূষণের সাথে সম্পর্কযুক্ত। ২১ মার্চ পর্যন্ত উত্তরাঞ্চলে মৃত্যুর হার প্রায় ১২%, যেখানে পুরো ইতালিতে এই হার ৪.৫%! ২০০৩ সালের SARS মহামারীর সময়েও দেখা গেছে যে বায়ু দূষণ মৃত্যুর ঝুঁকি দুইগুণ করে দেয়, যার মূলে ছিল আরেক ধরনের করোনাভাইরাস।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র করোনাভাইরাসজনিত মৃত্যুর সংখ্যায় সারা পৃথিবীতে এগিয়ে আছে, যার উপকেন্দ্র নিউ ইয়র্কে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, নিউ ইর্য়ক সিটির ম্যানহাটানের বাতাস আরেকটু বিশুদ্ধ হলে শত শত জীবন বাঁচতে পারত! অতএব, উচ্চ বায়ু দূষণের স্থানগুলোতে করোনার বিস্তার কমাতে অতিরিক্ত সতর্কতা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

বিশ্বজোড়া লকডাউন বায়ু দূষণ কমিয়ে আনলেও ঢাকার বাতাসের মান এখনো বিপদজনক পর্যায়েই রয়েছে, সেইসাথে রয়েছে ঢাকাবাসীদের শ্বাসতন্ত্রে এতদিনের দূষণের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব। বৈশ্বিক বায়ুদুষণ তালিকার শীর্ষস্থানীয় এই শহরের মানুষ করোনাভাইরাসের আক্রমনে তাই মৃত্যুর অত্যধিক ঝুঁকিতে আছেন।

তথ্যসুত্র

https://projects।iq।harvard।edu/covid-pm

https://www।sciencedirect।com/science/article/pii/S0269749120320601?via%3Dihub=

https://www.theguardian.com/environment/2020/mar/17/air-pollution-likely-to-increase-coronavirus-death-rate-warn-experts

  • Read in English

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

*
*