ইজতেমার মাঠের সংঘর্ষে ১৫০ মানুষের মৃত্যুর দাবিটি গুজব 

248
ইজতেমার মাঠের সংঘর্ষে ১৫০ মানুষের মৃত্যুর দাবিটি গুজব 
ইজতেমার মাঠের সংঘর্ষে ১৫০ মানুষের মৃত্যুর দাবিটি গুজব 

গাজীপুরের টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গতকাল বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) তাবলীগ জামাতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে দাবি করা হচ্ছে, ইজতেমা মাঠে নিহতের সংখ্যা ১০০ থেকে ১৫০ জন। তবে ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিশ্ব ইজতেমা মাঠের নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটা সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি সঠিক নয়। সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তবর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম গতকাল সচিবালয়ে সাদ ও জুবায়েরপন্থিদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং সংঘর্ষে চার জনের মৃত্যুর বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।

দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে ‘’স্বাধীন বাংলাদেশ নিউজ২৪৭ ব্লগস্পট’’ নামের একটি সাইটে এ সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। 

প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়, গাজীপুরের টঙ্গী ইজতেমা মাঠে তাবলিগ জামাতের সাদ ও জুবায়ের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা ১০০ থেকে ১৫০ জনে পৌঁছেছে। তবে প্রতিবেদনটিতে দাবিটির পক্ষে কোনো সূত্র উল্লেখ করা হয়নি।

বরং সাইটটি ঘুরে দেখা যায়, এতে ইতিপূর্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির নামে ভুয়া সংবাদ প্রচার করা হয়েছে। এদের মধ্যে আছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের পদত্যাগের গুজব, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলের নিখোঁজের গুজব, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের মৃত্যুর গুজব, শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিজয় দিবসের আগে দেশে ফেরার গুজব। যা সাইটটির গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

 আবার কিছু পোস্টে সূত্র হিসেবে এক ব্যক্তির ভিডিও সাক্ষাতকারও ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে। ভিডিওটিতে ওই ব্যক্তি দাবি করেন, তাবলীগ জামাতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে ১০০-১৫০ লোকের লাশ পড়ে আছে। কিন্তু তাঁর এই দাবির পক্ষেও কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। 

এ ছাড়া তাবলীগ জামাতের যে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, অনুসন্ধানে সে দুই গ্রুপের নেতৃস্থানীয় কোনো ব্যক্তিও এত সংখ্যক লোক মারা যাওয়ার দাবি করেছেন বলে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। 

পরে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের বাংলা সংস্করণে গতকাল বুধবার বিকেলে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, তাবলীগ জামাতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম সচিবালয়ে সাদ ও জুবায়েরপন্থিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ বৈঠকে তিনি সাংবাদিকদের জানান, সংঘর্ষে চার জনের মৃত্যু হয়েছে। 

এ ঘটনা নিয়ে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলের বাংলা সংস্করণে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনেও চারজন নিহতের তথ্য দেওয়া হয়েছে। নিহত এ চারজনের মধ্যে তিনজনের পরিচয়ও উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন, বাচ্চু মিয়া (৭০), তাইজুল ইসলাম (৬৫) এবং মো. বেলাল (৬০)। বাচ্চু মিয়ার বাড়ি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া, বেলালের বাড়ি ঢাকার দক্ষিণ খান, আর তাইজুলের বাড়ি বগুড়া। তিনজনের মধ্যে তাইজুল ইসলাম সাদপন্থি বলে জানা গেছে। অপর দুইজন জুবায়েরপন্থি।

সার্বিক বিবেচনায় ফ্যাক্টওয়াচ ইজতেমা মাঠে তাবলিগ জামাতের সাদ ও জুবায়ের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা দাবিতে প্রচারিত তথ্যটিকে মিথ্যা হিসেবে সাব্যস্ত করছে। 

এমন দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানেএখানে, এখানে, এখানে, এখানে। 

No Factcheck schema data available.

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh