ভারতের কর্ণাটকে মাজার স্থানান্তরের সময় ৩০০ বছরের পুরোনো এক ব্যক্তির অক্ষত মৃতদেহ উদ্ধারের একটি দাবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে ,এখানে যে ছবি ব্যবহার করা হচ্ছে,সেটি ২০১৮ সালে পাকিস্তানের তাবলিগে জামায়াতের আমিরের মরদেহের ছবি। অর্থাৎ এই ছবিটি মোটেই ৩০০ বছরের পুরনো নয়। এছাড়া কর্ণাটকের মাজার স্থানান্তরের সময় কোনো ছবি তোলা হয়নি, বা অক্ষত মৃতদেহের আলামত পাওয়া যায়নি বলে একাধিক সূত্রের মাধ্যমে জানা যাচ্ছে।
মোহাম্মদ সাকিব আহমেদ তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, “ভারতের উত্তর কর্ণাটকের হুবলি শহরের ক্বাদেরীয়া ত্বরীক্বতের এক বুযুর্গ সৈয়্যদ মাহমুদ শাহ্ ক্বাদেরী আলাইহির রহমাহ’র লাশ মুবারক ৩০০ বছর পরেও অক্ষত এখনো। রাষ্ট্রীয় স্বার্থে স্থানীয় শীর্ষ আলেমগণের দিকনির্দেশনা মোতাবেক যখন মাজার শরীফ ভেঙ্গে কবর স্থানান্তর করতে কবর খোঁড়া হলে সেথায় সৈয়্যদ মাহমুদ শাহ্ ক্বাদেরী আলাইহির রহমাহ’র দেহ মুবারক অক্ষত পাওয়া যায়, এমনকি শরীরের পশম ও মাথার চুল সহ। (ছবিতে যা সুস্পষ্ট, আল্লাহু আকবর)
পূর্বের মাজারের খানিক দুরত্বে পূনরায় আল্লাহ পাকের এই মহান অলি কে সমাহিত করা হয়।..আল্লাহর প্রকৃত অলীদের শরীর অক্ষত থাকে, মাটি তা ভক্ষণ করতে পারেনা,, সুবাহানাল্লাহ”। (বানান অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে)
এসব পোস্টে যে ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, এটি হাজী আব্দুল ওয়াহাব সাহেবের মরদেহের ছবি। তিনি তাবলিগে জামায়াত পাকিস্তানের আমির ছিলেন। ২০১৮ সালের ১৮ নভেম্বর ৯৫ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পাকিস্তানের লাহোরে শেষবিদায়ের সময় তার মরদেহের ছবি তোলা হয়েছিল। এই ছবিটাই ২০১৮ সালে অনেকে পোস্ট করেছিলেন। যেমন দেখুন এখানে, এখানে, এখানে,এখানে,এখানে।
হাজী আব্দুল ওয়াহাব সাহেবের জীবিত অবস্থায় তোলা ছবির সাথেও এই ছবির মিল লক্ষণীয়।
অর্থাৎ,এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবিটি পাকিস্তানের হাজী আব্দুল ওয়াহাব সাহেবের ছবি।
অন্যদিকে, ভারতের কর্ণাটকে সৈয়দ মাহমুদ শাহ কাদেরীর (রঃ) দরগার উক্ত স্থানের পাশে দ্রুতগতির সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কারণে উক্ত মাজারের অংশবিশেষ স্থানান্তরের প্রয়োজন হয়েছিল। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে মাজারের কিয়দংশ স্থানান্তরের এই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এ সময় মূল মাজার থেকে পীর সাহেবের মরদেহের অবশিষ্টাংশ সবুজ রঙের বড় চাদরে মুড়িয়ে ১০-১৫ ফুট দূরে নতুনভাবে খোড়া ভিন্ন কবরে স্থানান্তর করা হয়।
কর্ণাটকের অতওয়াল শরীফের অফিসিয়াল পেজ হিসেবে পরিচয়দানকারী সৈয়দ সাহিদ পাশা কাদরী নামক ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেল থেকে ২৫ ডিসেম্বর,২০২২ তারিখে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে নিশ্চিত করা হয় যে, পুরোনো কাফনের কাপড়ের মুখ খোলা হয়নি, বা কেউ কাপড় সরিয়ে ভেতরের ছবি তোলেনি। বরং কাফনের কাপড়ের ভেতর যা-ই অবশিষ্ট ছিল, সেটাকেই নতুন একটা সবুজ রঙের দীর্ঘ চাদরে মুড়িয়ে নতুন স্থানে সমাধিস্থ করা হয়েছে।
একই রকম দাবি দেখতে পাবেন সেসময়ে প্রকাশিত আরও কিছু ইউটিউব ভিডিওতে। যেমন দেখুন এখানে, এখানে, এখানে।
সে সময়ে মূলধারার গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনেও এমন অক্ষত মরদেহ দেখতে পাওয়ার কোনো তথ্য জানানো হয়নি। সেই সময়কার কিছু প্রতিবেদন দেখতে পাবেন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে।
সার্বিক বিবেচনায় ফ্যাক্টওয়াচ এ সংক্রান্ত পোস্টগুলোকে মিথ্যা সাব্যস্ত করছে ।
Claim: ভারতের কর্ণাটকে মাজার স্থানান্তরের সময় ৩০০ বছরের পুরোনো এক ব্যক্তির অক্ষত মৃতদেহ উদ্ধারের একটি দাবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh