ধর্ষণ নয়, ভিন্ন অপরাধে ভারতে গ্রেফতার ৪ আওয়ামী নেতা

556
ধর্ষণ নয়, ভিন্ন অপরাধে ভারতে গ্রেফতার ৪ আওয়ামী নেতা
ধর্ষণ নয়, ভিন্ন অপরাধে ভারতে গ্রেফতার ৪ আওয়ামী নেতা

ভারতে ধর্ষণের অভিযোগে আওয়ামী লীগের চার নেতাকে গ্রেফতার করার দাবিতে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারত ও বাংলাদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যম। পরবর্তীতে দাবিটি ছড়িয়েছে ফেসবুকেও। এসব প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত রোববার (৮ ডিসেম্বর) কলকাতার নিউ টাউন এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে ধর্ষণের অভিযোগে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দাবিটির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। তাদের মূলত অনুপ্রবেশ, ছিনতাই, জাতীয় সড়কে ডাকাতি, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত ও মারধরের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে ঘটনাটি নিয়ে বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটে মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। 

প্রতিবেদনটিতে ভারতের উত্তরপূর্ব রাজ্য মেঘালয়ের পুলিশের বরাত দিয়ে বলা হয়, মেঘালয় রাজ্যের একটি ফৌজদারি মামলায় পালিয়ে থাকা চারজন বাংলাদেশিকে কলকাতা থেকে তারা গ্রেফতার করে নিয়ে এসেছে। এরা সবাই বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সাথে জড়িত। তবে এদের বিরুদ্ধে মেঘালয়ে ধর্ষণের অভিযোগ আছে বলে যে খবর রটেছে, তা সঠিক নয় বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন মেঘালয় পুলিশের মহাপরিচালক ইদাশিশা নংরাং।

নংরাং বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন,  “ওই চারজনের বিরুদ্ধে ডাউকি থানার একটা মামলা ছিল। কোনও ধর্ষণের অভিযোগ নেই এদের বিরুদ্ধে। ডাউকি থানায় এদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার চারটি ধারা এবং বিদেশি আইনের ১৪ নম্বর ধারায় অভিযোগ ছিল। সেই মামলাতেই কলকাতা থেকে এদের গ্রেফতার করে আনা হয়েছে।”

মেঘালয়ের সংবাদপত্র শিলং টাইমসে এই চারজনকে আটকের ঘটনা নিয়ে গতকাল সোমবার (৯ডিসেম্বর) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এই প্রতিবেদনে তাদেরকে আটকের ব্যাপারে বলা হয়েছে, গত রোববার কলকাতায় চারজন আওয়ামী লীগ নেতা ও কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা গত মাসে পশ্চিম জৈন্তিয়া হিলসের ডাওকিতে স্থানীয় ট্রাক চালকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন খান এবং সিলেট মহানগর যুবলীগের সভাপতি আলম খান মুক্তি। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে এবং ডাওকি পুলিশ স্টেশনে একটি মামলাও হয়েছে এই ঘটনায়। 

একই ঘটনায় ভারতীয় দৈনিক আনন্দবাজার জানিয়েছে, কলকাতার নিউটাউনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মেঘালয় পুলিশ কলকাতা পুলিশের সহায়তায় তাঁদের গ্রেফতার করে। 

বারাসত আদালতের এক আইনজীবী আসলামউজ্জামানের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানিয়েছে, “অনুপ্রবেশ, ছিনতাই, জাতীয় সড়কে ডাকাতি, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত ও মারধরের অভিযোগে ধৃতদের রবিবার বারাসত আদালতে আনা হয়। ট্রানজ়িট রিমান্ডের জন্য আনা হলেও আদালত ছুটি থাকায় বিচারকের সামনে হাজির করানো হয়নি। ধৃতদের শিলং নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”

এই চারনেতাকে গ্রেপ্তারের ব্যাপারে ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী (নাদেল) প্রথম আলোকে বলেন, ”রোববার ভোরে মেঘালয়ের ডাউকি পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অবৈধ প্রবেশের অভিযোগে ডাউকি থানায় একজন মামলা করেছেন। এ মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।” 

এসব তথ্যের ভিত্তিতে ফ্যাক্টওয়াচ ভারতে ধর্ষণের অভিযোগে আওয়ামী লীগের চার নেতাকে গ্রেফতার করার দাবিটিকে মিথ্যা হিসেবে সাব্যস্ত করছে। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন দেখুন জি নিউজ। 

দেশীয় কিছু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন দেখুন ইন্ডিপেনডেন্ট টিভি, বিডিনিউজ২৪, ইনকিলাব, কালেরকণ্ঠ, জাগোনিউজ২৪, বাংলানিউজ২৪, এটিএন নিউজসময় টিভি, চ্যানেল২৪, একুশে টিভি, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, মানবজমিন, রাইজিং বিডি। 

ফেসবুকে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে। 

No Factcheck schema data available.

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh