সম্প্রতি ফেসবুকে সম্প্রতি একটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, “গাজীপুরে ব্রিজের নিচে আওয়ামী লীগ নেতার মেয়েকে বিএনপির সন্ত্রাসীরা বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যা করেছে।” তবে ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নিহত শিশুটি গাজীপুরের নয় বরং ফরিদপুর সদরের বাসিন্দা। ৭ বছর বয়সী এই শিশুটিকে এক মাদকাসক্ত যুবক চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে হত্যা করে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার বা পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো রাজনৈতিক যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।
ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ে বিভিন্ন কি-ফ্রেম ব্যবহার করে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। এর ফলে ‘গণকণ্ঠের ফরিদপুর’ নামক একটি ফেসবুক পেজে ৩০ এপ্রিল আপলোড করা হুবহু একই ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওর বর্ণনা অনুযায়ী, ফরিদপুর সদরের গেরদা ইউনিয়নের আদর্শগ্রাম এলাকা থেকে গত ২৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ‘কবিতা’ নামে এক শিশু নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের ছয় দিন পর একটি কলা বাগান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
একই ঘটনা সম্পর্কে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন এবং দৈনিক সমকালের প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। পুলিশি তদন্ত ও আসামির জবানবন্দি অনুযায়ী, ইসরাফিল নামে এক মাদকাসক্ত যুবক চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে এবং ব্যর্থ হয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। মরদেহ পাশেই নাসিমা বেগমের বাড়ির টয়লেটের ট্যাংকে ফেলে দেয়। পরবর্তীতে লাশের দুর্গন্ধে ধরা পড়ার ভয়ে প্রতিবেশী নাসিমা বেগম ও তার ছেলে আমিন মরদেহটি ড্রামে ভরে কলাবাগানে ফেলে দেয়। এই ঘটনায় পুলিশ মূল হত্যাকারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
ফরিদপুর সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন একটি সংবাদ সম্মেলনে পুরো ঘটনার বিবরণ দেন। সেখানে তিনি বা অন্য কোনো পুলিশ কর্মকর্তা ভুক্তভোগীর পরিবারকে আওয়ামী লীগ এবং হত্যাকারীকে বিএনপি নেতা বা কর্মী হিসেবে উল্লেখ করেননি। এছাড়া নির্ভরযোগ্য কোনো মাধ্যমেও এই ঘটনার সাথে রাজনৈতিক কোনো প্রতিহিংসার প্রমাণ মেলেনি।
তাই সবকিছু বিবেচনা করে এই পোস্টগুলোকে ফ্যাক্টওয়াচ ‘মিথ্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
Claim: গাজীপুরে ব্রিজের নিচে আওয়ামীলীগ নেতার মেয়েকে বিএনপির স'ন্ত্রাসীরা বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ধ*র্ষণ করে হ*ত্যা করছে!! এই নির্যাতনের শেষ কোথায় জাতি জানতে চায়??
Claimed By: Facebook users
Rating: Invalid rating
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh