আওয়ামী লীগ করার কারণে নির্যাতনের দাবিতে পুরোনো ভিডিও প্রচার 

10
আওয়ামী লীগ করার কারণে নির্যাতনের দাবিতে পুরোনো ভিডিও প্রচার 
আওয়ামী লীগ করার কারণে নির্যাতনের দাবিতে পুরোনো ভিডিও প্রচার 

একজন নারীকে পেটানোর একটি ভিডিও সম্প্রতি ফেসবুকে শেয়ার করা হচ্ছে। ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, বরিশালে আওয়ামীলীগ করায়, মিথ্যা অপবাদ দিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে অমানবিক নির্যাতন করলো বিএনপির সন্ত্রাসীরা। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, ভিডিওটি ২০১৮ সালে কুমিল্লায় পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে চার সন্তানের এক মা কে নির্যাতনের।

এ ধরনের পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে। 

অনুসন্ধানের শুরুতে ভিডিওটির কয়েকটি কি-ফ্রেমের সাহায্যে রিভার্স ইমেজ সার্চে ফেসবুকে একটি পোস্ট পাওয়া যায়। ২০১৮ সালের ১৪ আগস্টের এই পোস্টে বলা হয়েছে, “কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে চার সন্তানের এক জননীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করেছে চার দেবর। গৃহবধূকে মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। চার দেবরের হাতে ভাবি নির্যাতনের দৃশ্যটি সালিশদারসহ সবাই দেখলেও কেউ কোনো প্রতিবাদ করেনি। দেবরদের যোগসাজশে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে গৃহবধূকে লাঠি দিয়ে এমন নির্যাতন করা হয়।” এই পোস্টে আপলোড করা ভিডিওটির সঙ্গে আলোচ্য ভিডিওর মিল রয়েছে। 

পরবর্তী অনুসন্ধানে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে ২০১৮ সালের ১১ আগস্ট প্রকাশিত জাগো নিউজের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এই প্রতিবেদনের শিরোনাম- “ভাবিকে পেটালেন ৪ দেবর, বসে বসে দেখলেন চেয়ারম্যান”। 

প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে চার সন্তানের এক মা কে নির্যাতন করেছে চার দেবর। নির্যাতনের দৃশ্যটি সালিশদারসহ সবাই দেখলেও কেউ কোনো প্রতিবাদ করেনি। দেবরদের যোগসাজশে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে গৃহবধূকে লাঠি দিয়ে এমন নির্যাতন করা হয়। নির্যাতিত গৃহবধূ চার সন্তানের জননী। এই প্রতিবেদনের সঙ্গে তিনটি স্থির ছবি রয়েছে, যেগুলো আলোচিত ভিডিওর সঙ্গে মেলে।  

আরও অনুসন্ধানে চাঁদপুর টাইমসের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নির্যাতিত নারীর নাম আসমা আক্তার। ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই দাউদকান্দি উপজেলার বারপাড়া ইউনিয়নের বেকিসাত পাড়া গ্রামে এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। নির্যাতিতা ওই গ্রামের সামছু ব্যাপারীর পুত্র প্রবাসী কবির হোসেনের স্ত্রী। এ ঘটনায় আসমার বোন নারগিস আক্তার বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামি করে দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দু’জনকে আটক করে। 

কাজেই ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ে বরিশালের নয়, ২০১৮ সালে কুমিল্লার। নির্যাতিত নারী আওয়ামী লীগ করার কারণে সহিংসতার শিকার হননি। ফলে সঙ্গত কারণে, ফ্যাক্টওয়াচ এ ধরনের পোস্টগুলোকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে। 

Claim:
বরিশালে আওয়ামীলীগ করায়, মিথ্যা অপবাদ দিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে অমানবিক নির্যাতন করলো বিএনপির সন্ত্রাসীরা।

Claimed By:
Facebook Users

Rating:
False

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh