পলিথিনে পেঁচানো এক নারীর ছবি সম্প্রতি ফেসবুকে শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, ওই নারী হিন্দু। কোথাও কোথাও দাবি করা হচ্ছে, তাকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই নারী হিন্দু নন এবং তাকে ধর্ষণ করে হত্যা করার দাবিটিও মিথ্যা। দেশের একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী এই নারীর নাম মারিয়া বেগম। তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে স্বামীর প্রাক্তন স্ত্রীর স্বজনরা তাকে নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন মারিয়া বেগম।
তাকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে ও এখানে।
আলোচিত ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চে দৈনিক সমকালের ওয়েবসাইটে এটি নিয়ে একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। গতকাল রোববার (২৯ জুন) প্রকাশিত প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, বরিশাল সদরের তালুকদারের হাট এলাকায় হাত-পা বাঁধা ও পলিথিনে পেঁচানো অবস্থায় এই নারীকে উদ্ধার করা হয়। রোববার ভোরে বরিশাল-ভোলা সড়কের পাশ থেকে স্থানীয়রা মারিয়াকে উদ্ধার করেন। পরে পুলিশ শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করে। তার নাম মারিয়া বেগম (২৩)। তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে স্বামীর প্রাক্তন স্ত্রীর স্বজনরা তাকে নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ করেন মারিয়া।
প্রতিবেদনটিতে বন্দর থানার এসআই সিরাজুল ইসলামকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, মারিয়ার স্বামীর নাম মশিউর রহমান। তার শ্বশুর বাড়ি ভোলায়। বরিশাল নগরীর দপদপিয়া গ্যাসটারবাইন এলাকায় বাবার বাড়িতে থাকেন মারিয়া।
প্রতিবেদনটিতে মারিয়ার বক্তব্যও রয়েছে। যেখানে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ভোলার ব্যবসায়ী মশিউর রহমানের সঙ্গে এক বছর আগে তার বিয়ে হয়। স্বামীর কাছে ভোলা যেতে শনিবার বিকেলে বাসা থেকে বের হন। ঘাটে গিয়ে লঞ্চ ধরতে পারেননি। সড়ক পথে লাহারহাট স্টেশনে গিয়েও লঞ্চ ধরতে ব্যর্থ হন। এর পর বাসায় ফিরতে সন্ধ্যার পর ভ্যানে বরিশাল নগরীর উদ্দেশে রওনা হন। চরকাউয়ার জিরো পয়েন্টে পৌঁছলে স্বামীর প্রাক্তন স্ত্রীর ভাইয়েরা মারিয়াকে অপহরণ করেন। একটি জঙ্গলে নিয়ে নির্যাতন করে হাতা-পা বেঁধে পলিথিনে পেঁচিয়ে ফেলে রেখে যান।
এ ছাড়া প্রতিবেদনে চিকিৎসকের বক্তব্যও পাওয়া যায়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, পলিথিনে পেঁচানো এই নারী অর্থাৎ মারিয়া বেগমের সঙ্গে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।
একই ঘটনা নিয়ে সম্প্রচার মাধ্যম এখন টিভিতে একটি ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এ প্রতিবেদন থেকেও একই তথ্য পাওয়া যায়। ভিডিও প্রতিবেদনটি দেখুন-
এসব তথ্যের ভিত্তিতে ফ্যাক্টওয়াচ দাবিটিকে মিথ্যা হিসেবে শনাক্ত করেছে।
Claim: পলিথিনে পেঁচানো এক নারীর ছবি সম্প্রতি ফেসবুকে শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, ওই নারী হিন্দু। কোথাও কোথাও দাবি করা হচ্ছে, তাকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh