পাকিস্তানের মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের ভিডিও বাংলাদেশের দাবিতে ভাইরাল 

209
পাকিস্তানের মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের ভিডিও বাংলাদেশের দাবিতে ভাইরাল 
পাকিস্তানের মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের ভিডিও বাংলাদেশের দাবিতে ভাইরাল 

সম্প্রতি ফেসবুকে ১৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও শেয়ার করে বলা হচ্ছে যে, এটি বাংলাদেশের মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের ঘটনা। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, একজন শিশুকে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে এবং চিৎকারের শব্দ শোনা যাচ্ছে। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে যে, ভিডিওটি বাংলাদেশের নয় পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির একটি মাদ্রাসার ২০১৯ সালের ঘটনা। উল্লেখ্য, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশু নির্যাতনের ঘটনা বাংলাদেশে ঘটে, তবে ভাইরাল ভিডিওটি পাকিস্তানের। 

এ ধরনের পোস্টগুলোর কয়েকটি এখানে, এখানে, এখানে। 

ফেসবুকে ভিডিওটি শেয়ার হয়েছে বিভিন্ন ক্যাপশন জুড়ে দিয়ে। যেমন, এই পোস্টে ভিডিওটির ক্যাপশনে যুক্ত করা হয়েছে-  “বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলোতে এভাবেই জানাতের টিকিট দেওয়া হয়। এই নিদারুণ নিষ্ঠুরতা পৃথিবীতে এখন আর কোথাও নেই।” 

কোনো পোস্টে বলা হয়েছে- এমন শিক্ষার দরকার নাই। তামান্না আকতারের পোস্টটি শেয়ার হয়েছে ৪৫০ বার। পোস্টের কমেন্ট  সেকশনে পোস্টদাতা নিজেও বেশ কয়েকবার কমেন্ট করেছেন, অন্যরাও এটিকে বাংলাদেশের মাদ্রাসায় সাম্প্রতিক সময়ে ঘটেছে,  ধরে নিয়েই কমেন্ট করেছেন। 

ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানঃ

অনুসন্ধানের শুরুতে কয়েটি কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা যায়, পাকিস্তানেও ভিডিওটি অনেক ছড়িয়ে পড়েছিল ২০১৯ সালে। সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়ানোর পর ঐ মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়ে রাওয়ালপিন্ডির পুলিশ শাস্তিদাতা শিক্ষক নূর মোহাম্মদকে গ্রেফতার করে। ২০১৯ সালের ৩০ জুনে পাকিস্তানের জিও নিউজের (Geo News) একটি প্রতিবেদনে এই ঘটনাটির বিস্তারিত পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ভুক্তভোগী শিশু এবং তার বাবা পুলিশকে জানায়, তারা এটা করেছিল দুষ্টুমি করে। এই প্রতিবেদনটির সঙ্গে শিশুটির ঝুলন্ত অবস্থার ছবি যুক্ত আছে। বাংলাদেশে ছড়ানোর ভিভিওটির সঙ্গে এই ছবির হুবহু মিল রয়েছে। 

পুনরায় অনুসন্ধানে ২০১৯ সালের ২৮ জুনে প্রকাশিত আরও একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এই প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, একটি মাদ্রাসায় একজন ছাত্রকে উল্টো করে ঝুলিয়ে নির্মমভাবে প্রহার করা হয়েছিল বলে খবর পাওয়ার পর রাওয়ালপিন্ডি পুলিশ ওই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে।

কাউন্টার-টেরোরিজম বিভাগ, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সহায়তায়, সামাজিক মাধ্যমে ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাদ্রাসার অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদকে সাদিকাবাদের ঢোক কাশ্মীরিয়ান এলাকায় অবস্থিত মাদ্রাসাটি থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ওই শিক্ষক এবং ভুক্তভোগী ছাত্র ও ছাত্রের বাবাকে সাদিকাবাদ থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এই প্রতিবেদনের সঙ্গে নির্যাতিত শিশুটির ঝুলন্ত অবস্থার ছবি রয়েছে। স্পষ্টতই বাংলাদেশের মাদ্রাসায় ঘটেছে বলে যে ভিডিওটি ছড়িয়েছে, তা এই ঘটনার বলেই প্রতীয়মান হয়।

প্রসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে বাংলাদেশের মাদ্রাসা এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশু নির্যাতনের খবর পাওয়া যায়।

 এ ধরনের কয়েকটি প্রতিবেদন দেখুন, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে। 

এসব প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বোঝা যায় যে, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশু নির্যাতনের ঘটনা বাংলাদেশে ঘটে, তবে ভাইরাল ভিডিওর ঘটনাটি পাকিস্তানের। 

ফলে সঙ্গত কারণে, পাকিস্তানের মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের ঘটনাটিকে বাংলাদেশের বলে প্রচার করা ফেসবুক পোস্টগুলোকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হলো। 

Claim:
একটি শিশুকে উল্টো করে ঝুলিয়ে নির্যাতনের ভিডিওকে বাংলাদেশের একটি মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের দৃশ্য দাবিতে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ছে।

Claimed By:
Facebook users

Rating:
False

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh