বগুড়ায় পেট্রোলপাম্প কর্মকর্তাকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত রতন হিন্দু নন

169
বগুড়ায় পেট্রোলপাম্প কর্মকর্তাকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত রতন হিন্দু নন
বগুড়ায় পেট্রোলপাম্প কর্মকর্তাকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত রতন হিন্দু নন

বগুড়া শহরের দত্তবাড়ি এলাকায় শতাব্দী ফিলিং স্টেশন নামে একটি পেট্রোল পাম্পের অফিস কক্ষ থেকে গতকাল রোববার (৭ সেপ্টম্বর)  এক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ফেসবুকে এই ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, ইকবাল নামের ওই কর্মকর্তাকে পেট্রোল পাম্পের সহকর্মী নজেলম্যান সংখ্যালঘু রতন চন্দ্র দেবনাথ  হত্যা করেছে। অর্থ্যাৎ, এখানে রতনকে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ইকবাল নামের ওই কর্মকর্তা হত্যার সঙ্গে জড়িত রতন হিন্দু নন। তার পুরো নাম রাকিবুল ইসলাম ওরফে রতন (২৬)। তিনি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর এলাকার বাসিন্দা।

এই দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানেএখানে। 

দাবিটির সত্যটা যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে চ্যানেল২৪-এর ওয়েবসাইটে বগুড়ার এই ঘটনাটি নিয়ে একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। রোববার (৭ সেপ্টম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, বগুড়ার শতাব্দী ফিলিং স্টেশনে খুনের ঘটনাটির সিসি ফুটেজ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। 

এতে দেখা যায়, রাত আড়াইটার দিকে রতন একটি হাতুড়ি দিয়ে ইকবালের মাথায় একাধিকবার আঘাত করে। পরে মৃত্যু নিশ্চিত হলে সে পালিয়ে যায়। রতনের পুরো নাম রাকিবুল ইসলাম ওরফে রতন (২৬)। ইকবালের হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তাকে আটকের কথা জানিয়েছে পুলিশ। গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকা থেকে রাকিবুল ইসলাম ওরফে রতনকে  আটক করে বগুড়া জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা।

আটকের পর রাকিবুল ইসলাম ওরফে রতন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, ফিলিং স্টেশনে বেশ কিছুদিন ধরে তেল চুরি হচ্ছিল। এই তেল চুরির জন্য তাকে দায়ী করে ইকবাল। সেই ক্ষোভ থেকে ইকবালকে হত্যা করে রতন।

এই ঘটনা নিয়ে দৈনিক প্রথম আলোতেও একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটিতে বগুড়া জেলা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহারকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, পেট্রোল পাম্প কর্মকর্তা ইকবাল হত্যার ঘটনায় রাকিবুল ইসলাম ওরফে রতন নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটকের পর রাকিবুল ইসলাম ওরফে রতন স্বীকার করেছেন, শনিবার ভোররাতের দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় পেট্রোল পাম্পের ব্যবস্থাপক ইকবাল হোসেনকে হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে হত্যা করেন তিনি। এরপর বগুড়া থেকে পালিয়ে গাজীপুরের কালিয়াকৈর গিয়ে আত্মগোপন করেন। পেট্রোল পাম্পের তেল চুরি করা নিয়ে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মারধরের বদলা নিতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে পুলিশের কাছে দাবি করেন রাকিবুল ইসলাম।

বগুড়ায় পেট্রোলপাম্প কর্মকর্তাকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত রতন হিন্দু নন। বাংলা ভিশনের প্রতিবেদন থেকে স্ক্রিনশট

একই তথ্য জানা যায় দেশের অন্যান্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকেও। এমন কিছু প্রতিবেদন দেখুন সময় টিভি, বাংলা ভিশন। 

এসব প্রতিবেদনে অভিযুক্ত রতনের পুরো নাম রাকিবুল ইসলাম ওরফে রতন উল্লেখ করা হয়েছে। কোথাও তাকে রতন চন্দ্র দেবনাথ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। প্রতিবেদনগুলোতে রাকিবুল ইসলাম রতনের পরিচয় সম্পর্কে আরও বলা হয়েছে, সে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর এলাকার বাসিন্দা।

এ ছাড়া বগুড়ার শতাব্দী ফিলিং স্টেশনে খুনের ঘটনাটির সিসি ফুটেজে হাতুড়ি হাতে দেখা যাওয়া তরুণের চেহারার সঙ্গে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে আটক রাকিবুল ইসলাম ওরফে রতনের চেহারার মিল পাওয়া যায়। 

ফলে এটি নিশ্চিত হওয়া যায়, বগুড়া শহরের দত্তবাড়ি এলাকায় শতাব্দী ফিলিং স্টেশনে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ইকবাল নামে এক কর্মকর্তাকে হত্যার ঘটনায় জড়িত রতন হিন্দু সম্প্রদায়ের নন এবং তার পুরো নামও রতন চন্দ্র দেবনাথ নয়। রতনের পুরো নাম রাকিবুল ইসলাম ওরফে রতন। তাই ফ্যাক্টওয়াচ এমন দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্টগুলোকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে। 

Claim:
বগুড়া শহরের দত্তবাড়ি এলাকায় শতাব্দী ফিলিং স্টেশন নামে একটি পেট্রোল পাম্পের অফিস কক্ষ থেকে গতকাল রোববার (৭ সেপ্টম্বর) এক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ফেসবুকে এই ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, ইকবাল নামের ওই কর্মকর্তাকে পেট্রোল পাম্পের সহকর্মী নজেলম্যান সংখ্যালঘু রতন চন্দ্র দেবনাথ হত্যা করেছে।

Claimed By:
Facebook users

Rating:
False

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh