হাসনাত-সারজিসের গাড়িবহরে হামলার ভুয়া দাবি; ভিডিওটি ভিন্ন ঘটনার

29
হাসনাত-সারজিসের গাড়িবহরে হামলার ভুয়া দাবি; ভিডিওটি ভিন্ন ঘটনার
হাসনাত-সারজিসের গাড়িবহরে হামলার ভুয়া দাবি; ভিডিওটি ভিন্ন ঘটনার

সম্প্রতি ফেসবুকে একটি গাড়িবহরে ভাঙচুরের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে। ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে যে, এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ এবং সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তবে ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে জানা গেছে, এটি লালমনিরহাটের আদিতমারীতে এক শিশু হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ এবং প্রশাসনের গাড়ি ভাঙচুরের ভিডিও। এর সাথে হাসনাত আবদুল্লাহ বা সারজিস আলমের গাড়িবহরের কোনো সম্পর্ক নেই।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে। 

ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানঃ 

আলোচিত ভিডিওটির উৎস খুঁজে পাওয়ার জন্য এর বিভিন্ন কি-ফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। এর ফলে Md Badsha Sarkar নামের একটি ফেসবুক প্রোফাইলে ভাইরাল ভিডিওটির অনুরূপ একটি ভিডিও পাওয়া যায়। চলতি বছরের ১৪ জুলাই আপলোডকৃত ভিডিওর ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয় যে, ভিডিওটি লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলা ভেলাবাড়ী ইউনিয়নে সাত বছরের শিশু নন্দিনী হত্যাকে কেন্দ্র করে জনগণ কর্তৃক জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের গাড়ি ভাঙচুর করার দৃশ্য।

এই সূত্র ধরে প্রাসঙ্গিক কিছু কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধান করার মাধ্যমে ইউএনবি (UNB)-এর অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে এই ঘটনার ভিন্ন একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ভিডিওটি মূলত লালমনিরহাটের আদিতমারীতে ঘটে যাওয়া সেই সহিংসতারই প্রকৃত দৃশ্য।

প্রকৃতপক্ষে, উক্ত এলাকায় এক ভুট্টাক্ষেত থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় নন্দিনী রানী নামের ৭ বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্তকে পুলিশ আটক করার পর, উত্তেজিত স্থানীয় জনতা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এর ফলে পুলিশের সাথে এলাকাবাসীর তীব্র সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষ চলাকালীন বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে, যাতে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। 

অন্যদিকে, হাসনাত আবদুল্লাহ এবং সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলার এই দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাদের অফিসিয়াল কোনো সামাজিক মাধ্যম কিংবা এনসিপির পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা জানানো হয়নি। এছাড়া দেশের কোনো মূলধারার গণমাধ্যমেও এই ধরনের হামলার কোনো খবর প্রকাশিত হয়নি।

সঙ্গত কারণে ফ্যাক্টওয়াচ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিত্তিহীন এসব পোস্টকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

Claim:
এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ এবং সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

Claimed By:
Facebook users

Rating:
False

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh