সম্প্রতি ফেসবুকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান চিত্র দাবিতে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে। ভিডিওতে একটি মসজিদ ভাঙার দৃশ্য দেখানো হচ্ছে। তবে ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা গেছে বাস্তবে ভিডিওটি ভারতের কোনো ঘটনার নয়, বরং এটি ২০২৩ সালে পাকিস্তানের করাচিতে আহমদীয়া নামের একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপাসনালয় ভাঙচুর করার পুরোনো চিত্র।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করতে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে হিন্দুস্তান টাইমস (Hindustan Times)-এর ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি আপলোডকৃত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। এই ভিডিওর সাথে ভাইরাল ভিডিওর মিল রয়েছে। মূল ভিডিও থেকে জানা যায় যে, এটি পাকিস্তানের করাচির জামশেদ রোডে অবস্থিত আহমদীয়া সম্প্রদায়ের একটি উপাসনালয় (Ahmadiyya Hall) ভাঙচুরের দৃশ্য।
এএনআই (ANI), ডন (Dawn) এবং দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন (The Express Tribune) এ এই ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট পাওয়া যায়। মূলত ২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি এই উপাসনালয়ে একদল লোক হামলা চালায়। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন ব্যক্তি মই দিয়ে ছাদে উঠে স্লোগান দিতে দিতে হাতুড়ি দিয়ে এর মিনারগুলো গুঁড়িয়ে দেয়। এই ভাঙচুরের ঘটনায় পাঁচজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়। ১৯৫০-এর দশকে নির্মিত এই স্থাপনাটি ওই এলাকায় আহমদিয়াদের একটি পুরোনো কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
উল্লেখ্য, আহমদিয়া সম্প্রদায় হলো ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষদিকে মির্জা গোলাম আহমদ দ্বারা প্রবর্তিত একটি আন্দোলনের অনুসারী, যারা নিজেদের মুসলিম হিসেবে দাবি করলেও ইসলামের ‘শেষ নবী’ সংক্রান্ত বিশ্বাসের ভিন্ন ব্যাখ্যার কারণে মূলধারার মুসলিমদের থেকে আলাদা। পাকিস্তানের সংবিধানে ১৯৭৪ সালে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে অমুসলিম ঘোষণা করা হয় এবং ১৯৮৪ সালের অর্ডিন্যান্স XX আইনের মাধ্যমে তাদের জন্য নিজেদের মুসলিম পরিচয় দেওয়া, আযান দেওয়া বা উপাসনালয়কে ‘মসজিদ’ বলা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। এই আইনের কারণে আহমদিয়াদের উপাসনালয়ে মিনার নির্মাণ বা ইসলামি আচার-আচরণ পালন করা পাকিস্তানে একটি দণ্ডনীয় অপরাধ, যার ফলে তারা প্রতিনিয়ত রাষ্ট্রীয় বৈষম্য ও চরম সহিংসতার শিকার হন।
অর্থাৎ, এই ঘটনার সাথে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক কোনো পরিস্থিতির কোনো সম্পর্ক নেই। তাই সব কিছু বিবেচনা করে ফ্যাক্টওয়াচ ভাইরাল পোস্টগুলোকে মিথ্যা সাব্যস্ত করেছে।
Claim: পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান চিত্র। কোথায় মানবাধিকার? মসজিদ ভাঙ্গচুর
Claimed By: Facebook users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh