ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআই প্রযুক্তি ব্যবহার শুরুর কৃতিত্ব নিয়ে ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি দাবি ছড়ানো হচ্ছে। কিছু পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআই প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে বিএনপি সরকার। আবার কিছু পোস্টে দাবি করা হয়েছে, বিএনপি না, ঢাকায় ট্রাফিক সিগন্যালে এআই ক্যামেরার উদ্যোগ ছিল সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিএনপি বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নয়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের সূচনা হয়েছিল। ২০২৩ সালের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ওই সময় ঢাকার গুলশান-২ সিগন্যালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন (এআই) সিগন্যাল সিস্টেম বসানো হয়। ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এই পদক্ষেপ নেয়।
দাবিটির সত্যতা প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে দৈনিক সমকালের ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ২০২৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, ঢাকার সড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন (এআই) সিগন্যাল সিস্টেম বসানো হয়েছে। আইন ভাঙলেই অটো মামলা হবে। যার বিস্তারিত যাবে মোবাইল ফোনে।
একইদিনে দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকেও একই তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, লাল-সবুজ-হলুদ বাতির পর এবার দেশের ট্রাফিক সিস্টেমে যুক্ত হচ্ছে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা)। রাস্তায় বসানো হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন (এআই) সিগন্যাল সিস্টেম। প্রাথমিকভাবে ঢাকার গুলশান-২ সিগন্যালে পরীক্ষামূলকভাবে এ পদ্ধতি চালু করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন সিগন্যাল মেনটেন্যান্স সরঞ্জাম, সিসি ক্যামেরা, ইমেজ ক্যামেরা, ভিডিও ক্যামেরা ও অন্য সরঞ্জামাদি দিয়ে এই সিস্টেম চালু করা হয়েছে।
গুলশান-২ নম্বর সিগন্যালে কর্মরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, লালবাতি জ্বলা অবস্থায় সাদা দাগ অতিক্রম করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাফিক মামলা হবে। কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে সব ধরনের গাড়ির গতিবিধি। এআই ক্যামেরার মাধ্যমে কতগুলো গাড়ি ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করেছে তা দেখা যাচ্ছে।
বাংলা ভিশনের ওয়েবসাইটে ২০২৩ সালের ২৫ সেপ্টম্বরে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনেও একই তথ্য উল্লেখ করতে দেখা যায়।
যমুনা টিভির ২০২৪ সালের ২৬ এপ্রিলে প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন থেকেও জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ট্রাফিক সিগন্যালে এআইয়ের ব্যবহার ছিল।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স- এআই প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে নগরের ট্রাফিক সিগন্যালে। আই ট্রাফিক প্রকল্পের পাইলটিং প্রজেক্টের প্রথম ধাপে গুলশান ২ সার্কেলে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক সব যন্ত্রপাতি। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কাজটি চলছে। উত্তর সিটির মেয়র জানান, কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে পুরো চিত্র পর্যবক্ষেণ করবে সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ট্রাফিক পুলিশসহ একদল কারিগরি টিম। ট্রাফিক আইন ভাঙলে সয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ির মালিকের ফোন নাম্বারে চলে যাবে এসএমএস।
এসব প্রতিবেদন থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়, প্রাথমিকভাবে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকে। তাই ফ্যাক্টওয়াচ এই ব্যাপারে বিএনপি বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে কৃতিত্ব দিয়ে প্রচারিত ফেসবুক পোস্টগুলোকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে।
Claim: ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআই প্রযুক্তি ব্যবহার শুরুর কৃতিত্ব নিয়ে ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি দাবি ছড়ানো হচ্ছে। কিছু পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআই প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে বিএনপি সরকার। আবার কিছু পোস্টে দাবি করা হয়েছে, বিএনপি না, ঢাকায় ট্রাফিক সিগন্যালে এআই ক্যামেরার উদ্যোগ ছিল সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh