ফেসবুকে দৈনিক কালের কণ্ঠের আদলে তৈরি দুইটি পাতা প্রচার করা হচ্ছে। পাতা দুইটিতে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদকে নিয়ে সংবাদ রয়েছে। ড. ইউনূসের ছবিযুক্ত সংবাদটির শিরোনাম, ‘বাংলাদেশ আমাকে খুবই কষ্ট দিয়েছে, আমি আর বাংলাদেশে যেতে চাই না’। এটি প্রকাশের তারিখ ৬ জুন, ২০২৫। আসিফ মাহমুদের ছবিযুক্ত সংবাদটির শিরোনাম, ‘আমার কাছে যে পাঁচ হাজার কোটি টাকা আছে ওটা আমার পরিশ্রম করে ইনকাম করা টাকা আমি কোন দুর্নীতি করিনি আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে’। এটি প্রকাশের তারিখ ৮ জুন, ২০২৫। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই দুই তারিখে সংবাদপত্রগুলোতে কোরবানি ঈদের ছুটি থাকায় দেশে কোনো পত্রিকাই প্রকাশিত হয়নি।
ফেসবুকে প্রচারিত আলোচিত প্রতিবেদন দুইটি কালের কণ্ঠের ৬ ও ৮ জুনে প্রকাশিত হয়েছে বলে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, সংবাদপত্রে ঈদুল আজহার ছুটি ছিল ৫ থেকে ৯ জুন। এ কারণে ৬ থেকে ১০ জুন দেশের সব সংবাদপত্র বন্ধ ছিল। ছুটির সংবাদ নিয়ে ইত্তেফাকের প্রতিবেদন দেখুন এখানে।
সংবাদপত্রে ঈদের ছুটি নিয়ে কালের কণ্ঠেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রতিবেদনে ঈদের ছুটি বিষয়ে বলা হয়েছে, “ঈদুল আজহা উপলক্ষে সংবাদপত্র পাঁচ দিন বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)। নোয়াব সভাপতি এ কে আজাদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নোয়াবের নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৫ জুন থেকে ৯ জুন ঈদের ছুটি থাকবে। তাই ৬ জুন থেকে ১০ জুন পর্যন্ত কোনো পত্রিকা প্রকাশ করা হবে না।”
এছাড়া, পাতা দুইটি পর্যালোচনা করে বেশ কিছু অসঙ্গতি পাওয়া যায়। যেমন কালের কণ্ঠের স্লোগান– “আংশিক নয়, পুরো সত্য।” কিন্তু আলোচ্য দুই দিনের পত্রিকায় কালের কণ্ঠের ওপরে দুটি ভিন্ন ভিন্ন স্লোগান দেখা যায়।
পাতা দুইটিতে বিভিন্ন শব্দ ভাঙা যেমন, নাছিদ ইসলাম, কূটনীতি, তংপরতা, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অস্থির। এ ধরনের অসঙ্গতি এআই ব্যবহার করে বানানো কন্টেন্টে দেখা যায়।
এআই শনাক্তকারী টুল পাতা দুটিকে এআই জেনারেটেড হিসেবে শনাক্ত করেছে।
এছাড়া, দেশের মূলধারার সংবাদমাধ্যমে অনুসন্ধান করে ড. ইউনূস এবং আসিফ মাহমুদের এ ধরনের বক্তব্য পাওয়া যায় না।
কাজেই সবদিক পর্যালোচনা করে, এগুলোকে এআই নির্মিত বলেই প্রতীয়মান হয়। ফলে সঙ্গত কারণে, এই ছবিগুলোকে বিকৃত হিসেবে সাব্যস্ত করছে ফ্যাক্টওয়াচ।
Claim: ড. ইউনূসের ছবিযুক্ত সংবাদটির শিরোনাম, ‘বাংলাদেশ আমাকে খুবই কষ্ট দিয়েছে, আমি আর বাংলাদেশে যেতে চাই না’। আসিফ মাহমুদের ছবিযুক্ত সংবাদটির শিরোনাম, ‘আমার কাছে যে পাঁচ হাজার কোটি টাকা আছে ওটা আমার পরিশ্রম করে ইনকাম করা টাকা আমি কোন দুর্নীতি করিনি আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে’।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh