বিএনপি নেতার মারধরের দাবিতে ভারতের ভিডিও প্রচার 

17
বিএনপি নেতার মারধরের দাবিতে ভারতের ভিডিও প্রচার 
বিএনপি নেতার মারধরের দাবিতে ভারতের ভিডিও প্রচার 

সম্প্রতি ফেসবুকে এক নারীকে মারধরের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে। ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, “জমি দখলে বাঁধা দেয়ায় নারীর উপরে বিএনপি নেতার নির্যাতন করার ভিডিও।" কিন্তু ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে ভিডিওটি ভারতের। ভুক্তভোগী এই নারী চাকরির আশায় টাকা দিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছিলেন বলে জানা যায়। পরবর্তীতে টাকা ফেরত চাইলে এই মারধরের ঘটনা ঘটে।

 

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে। 

ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানঃ 

ভাইরাল ভিডিওটির বিভিন্ন অংশ (কি-ফ্রেম) নিয়ে অনুসন্ধান করলে newsx এর ওয়েবসাইটে এই ঘটনার উপরে একটি প্রতিবেদন এবং ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, একজন ব্যক্তি একাধিক নারীকে আঘাতে করছে। ২৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে। জানা যাচ্ছে, ঘটনার স্থান শিবাজিনগর জেল রোড, নাসিক। গুগল ম্যাপ থেকে জানা যাচ্ছে এটি ভারতের মহারাষ্ট্র অঞ্চলের একটি স্থান। 

প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, এই নারী পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চাকরির জন্য ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী  টাকা দিয়েছিলেন। তবে তার চাকরিটি হয়নি। পরবর্তীতে তিনি ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তির কাছে গিয়ে টাকা ফেরত চান। এরপর এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ভিডিওতে সাদাশার্ট পরিহিত ব্যক্তি একাধিক নারীকে আঘাত করতে দেখা যায়। 

উল্লেখ্য, প্রতিবেদনের মাধ্যমে এটিও জানা যাচ্ছে নাসিক রোড পুলিশ স্টেশনে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এটা নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। 

উল্লেখ্য, ২৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে শিভা ঠাকুর একটি এক্স একাউন্টে ঘটনাটি পোস্ট করা হয়। লোকেশন হিসেবে শিবাজিনগর নাসিকের কথা উল্লেখ করা হয়। 

ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের কথা শুনে ধারণা পাওয়া যায়, তারা বাংলায় কথা বলছেন না। এমনকি বাংলাদেশের কোনো অঞ্চলের কথার সাথে তাদের কথার মিল পাওয়া যাচ্ছে না। 

অর্থাৎ, ভিডিওটি বাংলাদেশের কোনো স্থানের নয়, ভারতের। 

তাই ফ্যাক্টওয়াচ ভিত্তিহীন এই দাবিকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে। 

Claim:
সম্প্রতি ফেসবুকে এক নারীকে মারধরের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে। ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, “জমি দখলে বাঁধা দেয়ায় নারীর উপরে বিএনপি নেতার নির্যাতন করার ভিডিও।"

Claimed By:
Fcaceboo Users

Rating:
False

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh