সম্প্রতি ফেসবুকে কিছু পোস্টে কয়েকটি ছবি শেয়ার করে ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, এগুলো অভিনেত্রী শবনম ফারিয়ার ছবি। আবার কখনো ভিন্ন ছবি দিয়ে দাবি করা হচ্ছে সেগুলো অভিনেত্রী পরীমনি, দীঘি কিংবা সাদিয়া আয়মানের। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ছবিগুলো প্রযুক্তির সহায়তায় এডিট করা হয়েছে। অনলাইন থেকে বিভিন্ন নারীর ছবি নিয়ে সেখানে বাংলাদেশি অভিনেত্রীদের মুখ বসানো হয়েছে। অনুসন্ধান করতে গিয়ে আরও দেখা যায়, ‘চলো বদলে যাই' নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে বিভিন্ন অভিনেত্রীর নামে এমন এডিটেড ছবি নিয়মিত শেয়ার করা হয়।
নমুনা-১
স্বল্প কাপড় পরা একজন মেয়ের কয়েকটি ছবি শেয়ার করে বলা হচ্ছে, এগুলো অভিনেত্রী শবনম ফারিয়ার ছবি। রিভার্স ইমেজ সার্চে ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট পাওয়া যায়। ‘আরজহি (arjohi)’ নামের আইডি থেকে একটি ছবি শেয়ার করা হয়েছে। শবনম ফারিয়ার নামে ছড়ানো ছবিগুলোর সঙ্গে এই ছবিটির মুখ ছাড়া বাকি সব কিছুই মিলে যায়। ছবির মেয়েটির গলার নিচের ‘মৃত্যু’ লেখা ট্যাটুও স্পষ্ট দেখা যায়। ছবির মেয়েটি ছাড়াও সুইমিংপুল এবং আশপাশের এলাকা হুবহু এক। ফলে ছবিটির শুধু মুখ এডিট করে শবনম ফারিয়ার মুখ বসানো হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।
অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া তার ফেসবুক আইডি থেকে এই এডিটেড ছবি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। ইন্সটাগ্রামের আজরহির আইডির ছবিগুলো শেয়ার দিয়ে তিনি লিখেছেন, “ভাই এডিট করে ছবি দে, সমস্যা নাই! কিন্তু জাতের কারো ছবি দিয়ে দে, এমন যার সাথে গায়ের রং মেলে না, হাইট মিলে না, এর আবার শরীরে ট্যাটু করা, এদের ছবিতে এডিট করবি কেন?”
শবনম ফারিয়ার বক্তব্য নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। একটি প্রতিবেদন দেখুন, এখানে।
নমুনা – ২
চলো বদলে যাই নামের আইডিটি থেকে পরিমনীর নামেও একই কায়দায় কিছু ছবি শেয়ার করা হয়েছে। ছবিসহ পোস্ট দেখুন, এখানে। ছবিতে রিভার্স ইমেজ সার্চে ইন্সটাগ্রামে একটি পোস্ট পাওয়া যায়। এই পোস্টের মডেলের পোশাক, পারিপার্শ্বিক সমস্ত কিছুই পরিমনীর নামে ছড়ানো ছবিগুলোর সঙ্গে হুবহু মেলে। ছবি পর্যবেক্ষণ করে প্রতীয়মান হয় যে, শুধু মেয়েটির মুখ এডিট করে পরিমনীর মুখ বসানো হয়েছে।
মূল ছবি
নমুনা – ৩
কিছু ছবি পোস্ট করে ছবিগুলো অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মানের বলে দাবি করা হয়েছে। ‘চলো বদলে যাই’ নামের আইডি থেকে ‘জাতির ক্রাশ প্রিয় ভাইরাল অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান’- এই ক্যাপশনের পোস্টটি দেখুন, এখানে। এই পোস্টের ছবিতে রিভার্স ইমেজ সার্চে ইন্সটাগ্রামে একটি পোস্টপাওয়া যায়। পূজা সিং রাজপুত (poojasinghrajput1031) নামের আইডি থেকে পোস্ট করা ছবির মেয়েটির পোশাক এবং পারিপার্শ্বিক সব কিছু সাদিয়া আয়মানের নামের পোস্টটির সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। আরও একটি আইডি থেকে একই ধরণের ছবি পোস্ট করা হয়েছে। শুধু মুখটি আলাদা। ছবি পর্যবেক্ষণ করে এটি নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ইনস্টাগ্রাম আইডির পোস্টের মেয়েটির মুখ এডিট করে সাদিয়া আয়মানের মুখ বসানো হয়েছে। এডিটেড ছবি শেয়ার হয়েছে এমন আরেকটি পোস্ট দেখুন, এখানে।
মূল ছবি
নমুনা – ৪
অভিনেত্রী প্রার্থনা ফারদিন দীঘির নামেও রয়েছে এ ধরণের এডিটেড ছবি। চলো বদলে যাই আইডি থেকে শেয়ার হওয়া ছবিগুলোতে রিভার্স ইমেজ সার্চে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট পাওয়া যায়। অঞ্জলি গুপ্ত নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে একই ধরণের ছবি পোস্ট করা হয়েছে।
এই ছবিগুলোর শুধু মুখ ছাড়া সবকিছুই ফেসবুকে দীঘির নামে ছড়ানো ছবিগুলোর সঙ্গে মিলে যায়। ফলে এগুলোও মুখমণ্ডল এডিট করে বদলে দিয়ে ফেসবুকে দীঘির নামে শেয়ার করা হয়েছে।
মূল ছবি
ফলে, ‘চলো বদলে যাই’ নামের আইডিটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এটি থেকে বাংলাদেশের অভিনেত্রীদের এডিটেড ছবি নিয়ে ক্রমাগত পোস্ট করা হয়। সঙ্গত কারণে ফ্যাক্টওয়াচ এ ধরণের পোস্টগুলোকে ‘বিকৃত’ হিসেবে চিহ্নিত করছে।
Claim: সম্প্রতি ফেসবুকে কিছু পোস্টে কয়েকটি ছবি শেয়ার করে ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, এগুলো অভিনেত্রী শবনম ফারিয়ার ছবি। আবার কখনো ভিন্ন ছবি দিয়ে দাবি করা হচ্ছে সেগুলো অভিনেত্রী পরীমনি, দীঘি কিংবা সাদিয়া আয়মানের।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh