আমার দেশের নামে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে ভুয়া ফটোকার্ড

35
আমার দেশের নামে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে ভুয়া ফটোকার্ড
আমার দেশের নামে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে ভুয়া ফটোকার্ড

সম্প্রতি দৈনিক আমার দেশের নাম ও লোগোযুক্ত বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে একটি এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতা মোহাম্মদ তাহেরকে নিয়ে ফটোকার্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আলোচিত ফটোকার্ড দুটি দৈনিক আমার দেশ প্রকাশ করেনি। বরং সংবাদমাধ্যমটির লোগো ও ডিজাইন ব্যবহার করে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যের এসব ফটোকার্ড তৈরি করা হয়েছে।

এই দাবিতে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে

ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধান

প্রথম ফটোকার্ডে তারেক রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি ব্যবহার করে লেখা হয়েছে, “তারেক রহমান ভারতে গেলে, সেই সুযোগে হাসিনার দেশে ঢুকে যাওয়ার পরিকল্পনা”। ফটোকার্ডটিতে ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখও উল্লেখ রয়েছে।

অন্য ফটোকার্ডে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মোহাম্মদ তাহেরের ছবি ব্যবহার করে দাবি করা হয়েছে, “ঢাকা ছাড়ার আগে ‘র’ প্রধান পরাগ জৈনের সাথে মোহাম্মদ তাহেরের গোপন বৈঠক”।

দুটি ফটোকার্ডের দাবির বিষয়ে দৈনিক আমার দেশের ওয়েবসাইটে অনুসন্ধান করে এ ধরনের কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট দাবিগুলোর শিরোনাম ধরে ওয়েবসাইটে অনুসন্ধান করেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। পত্রিকাটির ফেসবুক পেজেও এমন কোনো ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি।

তবে ফটোকার্ড দুটির ওপরের ডান পাশে “যাচাই করুন” লেখা একটি করে কিউআর কোড রয়েছে। ফ্যাক্টওয়াচ উভয় কিউআর কোড স্ক্যান করে দেখতে পায়, দুটি কোডই দৈনিক আমার দেশের একই প্রতিবেদনে নিয়ে যায়।

প্রতিবেদনটির শিরোনাম “মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না, সামনের দিকে এগিয়ে যাবে”। এটি ৯ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রপাড়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কর্মসূচিতে তারেক রহমানের দেওয়া বক্তব্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে তারেক রহমান দেশের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন, ফ্যামিলি কার্ড, লবণ চাষিদের সহায়তা এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

কিন্তু কিউআর কোডে থাকা ওই প্রতিবেদনে তারেক রহমান ভারতে গেলে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে প্রবেশের পরিকল্পনা করছেন এমন কোনো তথ্য নেই। একইভাবে, মোহাম্মদ তাহেরের সঙ্গে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধান পরাগ জৈনের কোনো গোপন বৈঠকের তথ্যও সেখানে নেই।

অর্থাৎ, ফটোকার্ড দুটিতে দৈনিক আমার দেশের একটি সত্যিকারের প্রতিবেদনের কিউআর কোড ব্যবহার করা হয়েছে। তবে ওই প্রতিবেদনের বিষয়বস্তুর সঙ্গে ফটোকার্ডে লেখা দাবির কোনো সম্পর্ক নেই।

ফটোকার্ড প্রচারকারী পেজটিও দৈনিক আমার দেশের অফিসিয়াল পেজ নয়

ফ্যাক্টওয়াচের হাতে থাকা ফেসবুক পেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আলোচিত ফটোকার্ডগুলো “Daily Amader Desh” নামের একটি পেজ থেকে প্রচার করা হয়েছে। পেজটিতে প্রায় ১৪ হাজার অনুসারী রয়েছে এবং এটি নিজেকে “Media/news company” হিসেবে পরিচয় দিয়েছে।

facebook.com
Daily Amader Desh
Daily Amader Desh. 14,116 likes · 184,864 talking about this. বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ, আইনের শাসন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে সোচ্চার অকুতোভয় সংবাদপত্র।

তবে সংবাদমাধ্যমটির প্রকৃত নাম “Daily Amar Desh”, আর ওই পেজটির নাম “Daily Amader Desh”। অর্থাৎ, পেজটির নামে “Amar” এর পরিবর্তে “Amader” ব্যবহার করা হয়েছে।

facebook.com
Daily Amar Desh | Dhaka
Daily Amar Desh, Dhaka. 1,758,981 likes · 2,476,590 talking about this · 284 were here. মজলুম সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সম্পাদিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ, আইনের শাসন, গণতন্ত্র,…

এ ছাড়া পেজটির প্রোফাইল ছবি ও কভার ফটোতে দৈনিক আমার দেশের লোগো ও পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে পেজটিকে দৈনিক আমার দেশের অফিসিয়াল পেজ বলে মনে হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ অনুযায়ী, দৈনিক আমার দেশের নামে প্রচারিত আলোচিত দুটি ফটোকার্ড দৈনিক আমার দেশের প্রকাশিত সংবাদ নয়। এগুলোতে সংবাদমাধ্যমটির লোগো ও ডিজাইন ব্যবহার করে ভিন্ন বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ফটোকার্ডে এমন একটি আসল প্রতিবেদনের কিউআর কোড যুক্ত করা হয়েছে, যার সঙ্গে দাবিগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই। তাই ফ্যাক্টওয়াচ ফটোকার্ডগুলোকে ‘বিকৃত’ হিসেবে চিহ্নিত করছে।

Claim:
সম্প্রতি দৈনিক আমার দেশের নাম ও লোগোযুক্ত বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে একটি এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতা মোহাম্মদ তাহেরকে নিয়ে ফটোকার্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

Claimed By:
Facebook Users

Rating:
False

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh