হাতকড়া পরা সাদা পোশাকের এক ব্যক্তির দুই পাশে দুইজন পুলিশের পোশাক পরা ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছে, এ ধরনের একটি ছবি ফেসবুকে শেয়ার করা হচ্ছে। ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, হিন্দু মুসলমানের মধ্যে দাঙ্গা বাধানোর মূল হোতাকে গ্রেফতার করল বাংলাদেশ পুলিশ। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, ছবিটি এআই ব্যবহার করে বানানো। হাতকড়া পরা ব্যক্তির চেহারার সঙ্গে ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার আহবায়ক আরিফ আল খবীরের চেহারা মেলে। মূলধারার গণমাধ্যমে তাকে গ্রেফতারের খবর পাওয়া যায় না।
আলোচ্য ছবিটির হাতকড়া পরা ব্যক্তিকে আরিফ আল খবীর হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সম্প্রতি তাকে গাইবান্ধার আলোচিত রামমন্দির নিয়ে সহিংস বক্তব্য দিতে দেখা যায়। তিনি বুলডোজার দিয়ে মন্দিরটি গুড়িয়ে দেওয়ার কথা বলেন। হিন্দু-মুসলিম বৈরিতা এবং বাংলাদেশ-ভারত জড়িয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। এই কারণে তাকে ‘হিন্দু মুসলমানের মধ্যে দাঙ্গা বাধানোর মূল হোতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।
মূলধারার সংবাদ মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে খবরের বিষয় হয়েছেন। এ ধরনের কয়েকটি প্রতিবেদন এখানে, এখানে, এখানে। ফলে, তিনি গ্রেফতার হলে সে খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হতো। অনুসন্ধানে এ ধরনের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
ছবিটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দুইজন পুলিশের চেহারা এক রকম। ছবির তিন ব্যক্তির দাঁড়িয়ে থাকার ভঙ্গি ও তাকানো কৃত্রিম মনে হয়। এ ধরনের অসঙ্গতি এআই ব্যবহার করে বানানো ছবির ক্ষেত্রে দেখা যায়।
এছাড়া, এআই শনাক্তকারী টুল ‘হাইভ মডারেশন’ ব্যবহার করে এটি কৃত্রিম হওয়ার সম্ভাবনা পাওয়া যায়।
ফলে, আরিফ আল খবীরের গ্রেফতারের ছবিটি বাস্তব নয়। সঙ্গত কারণে, এ ধরনের পোস্টগুলোকে মিথ্যা হিসেবে শনাক্ত করছে ফ্যাক্টওয়াচ।
Claim: হিন্দু মুসলমানের মধ্যে দাঙ্গা বাধানোর মূল হোতাকে গ্রেফতার করল বাংলাদেশ পুলিশ।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh