বিডিআর বিদ্রোহ মামলার পুনঃতদন্তে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বর্তমান প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে এক নম্বর আসামী করা হয়েছে-এমন একটি দাবি ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দাবিটির পক্ষে কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। ভিত্তিহীন এই দাবিটি 'দিনপত্র' নামে একটি কথিত নিউজ পোর্টালের সূত্রে ফেসবুকে ছড়াচ্ছে।
দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে দিনপত্র নামের একটি ওয়েবসাইটে একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটির শিরোনাম, ‘বিডিআর বিদ্রোহ মামলার পুনঃতদন্তে এক নম্বর আসামী সেনা প্রধান ওয়াকার উজ জামান।’
এটির বিস্তারিত অংশে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে বিডিআর বিদ্রোহ মামলার পুনঃতদন্তে এক নম্বর আসামী করার দাবিটির পক্ষে কোনো তথ্যই নেই।
অর্থাৎ বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা পুনঃতদন্তে গঠিত স্বাধীন কমিশন এখনো তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এই কমিশন বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা নিয়ে কোনো প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তথ্যও পাওয়া যায় না।
পরে আরও খুঁজে ২০০৯ সালে সংঘটিত বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় গত বছরের আগস্টে করা একটি মামলার তথ্য পাওয়া যায়। সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট বিডিআর বিদ্রোহের মামলার আসামি বিডিআরের উপ-সহকারী পরিচালক (ডিএডি) বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুর রহিমের কারাগারে মৃত্যুর ঘটনায় তখনকার সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা, বিডিআর প্রধান (পরবর্তীতে সেনা প্রধান) জেনারেল আজিজ আহমেদসহ ১৩ জনের নামে হত্যা মামলা করা হয়।
বিডিআর বিদ্রোহ মামলার পুনঃতদন্তে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে এক নম্বর আসামী করার ব্যাপারে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি
এই ১৩ জনের মধ্যেও বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের নাম পাওয়া যায়নি। প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমেও বিডিআর বিদ্রোহ মামলার পুনঃতদন্তে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে এক নম্বর আসামী করার ব্যাপারে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ফলে এটি নিশ্চিত হওয়া যায়, বিডিআর বিদ্রোহ মামলার পুনঃতদন্তে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে এক নম্বর আসামী করার দাবিটি ভিত্তিহীন। কোনো ধরনের বিস্তারিত তথ্যসূত্র ছাড়াই দাবিটি ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে। তাই ফ্যাক্টওয়াচ এমন দাবিকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে।
Claim: বিডিআর বিদ্রোহ মামলার পুনঃতদন্তে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বর্তমান প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে এক নম্বর আসামী করা হয়েছে
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh