ইরাকের বাজারে ক্রীতদাসী বিক্রির ভিডিওটি পারফরম্যান্স আর্টের অংশ

250
ইরাকের বাজারে ক্রীতদাসী বিক্রির ভিডিওটি পারফরম্যান্স আর্টের অংশ
ইরাকের বাজারে ক্রীতদাসী বিক্রির ভিডিওটি পারফরম্যান্স আর্টের অংশ

'ইরাকের বাজারে ক্রীতদাসী বিক্রি হচ্ছে' এমন ক্যাপশনে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ১৯ সেকেন্ডের এসব ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কালো বোরখা পরিহিত কয়েকজন নারীকে শিকল দিয়ে বেঁধে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। একজন বয়স্ক পুরুষ নারীদের মুখের পর্দা বা ঘোমটা সরিয়ে তাদের পরখ করছেন। তবে অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, এটা প্রকৃতপক্ষে কোনো ক্রীতদাসী বিক্রির বাজার নয়, বরং ইরাকি কুর্দি শিল্পী আরিয়ান রফিকের করা একটি পারফরম্যান্স আর্টের অংশ।

রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে “Minorities Eye” নামক ফেসবুক পেজে ৩ আগস্ট ২০২৩ তারিখে একটি ৫ মিনিট ২১ সেকেন্ডের  ভিডিও দেখা যাচ্ছে। এই ভিডিওর ৩ মিনিট ৩০ তম সেকেন্ড থেকে ৩ মিনিট ৫০ তম সেকেন্ডের মাঝে এক বয়স্ক পুরুষকে শিকলবন্দী কালো বোরখা পরিহিত নারীদের মুখের কাপড় সরিয়ে সরিয়ে পরখ করতে দেখা যায়, যা আলোচিত ১৯ সেকেন্ডের ভাইরাল ভিডিওর সাথে মিলে যায়।

এর ক্যাপশনে লেখা ছিল- “The Unheard Screams of the Ezidish Angels By: Aryan Rafiq” (যার সম্ভাব্য বাংলা অনুবাদ হতে পারে- ইয়াজিদি নারীদের না শোনা আর্তনাদ, আরিয়ান রফিক এর শিল্পকর্ম)। 

পরবর্তীতে শিল্পী আরিয়ান রফিক এর ফেসবুক প্রোফাইল ঘেটে জানা যাচ্ছে, তিনি ইরাকের কুর্দিস্তানে বসবাসরত একজন কুর্দি শিল্পী। ২০২৩ সালের ৮ই মার্চ ইরাকের ইরবিল শহরে তার এই প্রদর্শনীটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই অনুষ্ঠানে ইরাকের ইয়াজিদি নারীদের ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের হাতে গ্রেফতার এবং ক্রীতদাসীর মত ব্যবহার এর কিছু দৃশ্য অভিনয় করে দেখানো হয়েছে।
শিল্পীর ফেসবুক একাউন্টে এই অনুষ্ঠানের খবর দেখতে পাবেন এখানে। 

অর্থাৎ, এটা নিশ্চিত যে এই ভিডিওতে ক্রীতদাস বিক্রির কোনো ঘটনা ঘটছে না, বরং অনুরূপ ঘটনা অভিনয় করে দেখানো হচ্ছে। তবে অনেকেই একে আসল ‘ক্রীতদাস বিক্রি’ ভেবে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। এমন কয়েকটি পোস্ট দেখতে পাবেন এখানে, এখানে, এখানে , এখানে,এখানে, এখানে, এখানে ,এখানে 

বাংলাদেশ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ভারতে অনুরূপ গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। সে সময় কেউ কেউ একে ইরান কিংবা সিরিয়ার ঘটনা হিসেবেও উল্লেখ করেছিলেন। নিউজচেকার, ফ্যাক্টলি সহ বিভিন্ন ফ্যাক্টচেকিং সংস্থা এই দাবি খন্ডন করেছিল। এমন কয়েকটি ফ্যাক্টচেকিং রিপোর্ট দেখতে পাবেন এখানে , এখানে , এখানে , এখানেএখানে  ,এখানে ,এখানে  ।

সার্বিক বিবেচনায়, বাংলা ভাষায় নতুনভাবে ছড়িয়ে পড়া এই দাবিগুলোকে ফ্যাক্টওয়াচ ‘বিভ্রান্তিকর’ সাব্যস্ত করছে৷

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ইরাকে ২০১৪ সালে যখন আই এস দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেয় তখন তারা সংখ্যালঘু ইয়াজিদি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বহু লোককে হত্যা এবং বন্দী করে। এদের অনেককে দাস হিসেবে ব্যবহার করা হয় । নাদিয়া মুরাদ সহ অনেক উল্লেখযোগ্য ইয়াজিদি নারী পরবর্তীতে মুক্ত হয়ে গণমাধ্যমে নিজেদের বন্দীদশার কথা জানান।

No Factcheck schema data available.

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh