সঙ্গীতশিল্পী আসিফ আকবর গ্রেফতার হয়েছেন দাবিতে ফেসবুকে একটি তথ্য শেয়ার করা হচ্ছে। দাবি করা হচ্ছে, আসিফ আকবরকে কপিরাইট ও ডিজিটাল কনটেন্ট-সংক্রান্ত একটি মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, তার গ্রেফতারের দাবিটি ভুয়া। মূলত, ২০১৮ সালে গ্রেপ্তারের পুরোনো ছবি শেয়ার করে সম্প্রতি ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন আসিফ। ধারণা করা যায়, এই পোস্ট থেকেই আসিফ আকবরের গ্রেফতারের দাবিটি ছড়িয়েছে।
দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে দেশের কোনো সংবাদমাধ্যমে আসিফ আকবরের গ্রেফতারের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বরং নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪-এ গতকাল শনিবার (৬ জুন) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এই তথ্যটিকে গুজব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আসিফ আকবরের স্ত্রী সালমা আসিফ মিতুকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ‘আসিফকে গ্রেফতার করা হয়েছে—এমন খবরের কোনো সত্যতা নেই। তিনি গ্রেফতার হননি। সব ঠিক আছে।’
পরবর্তীতে আসিফ আকবরের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ খুঁজে একটি পোস্ট পাওয়া যায়। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় দেওয়া এই পোস্টে তিনি লিখেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলে গ্রেপ্তার হওয়ার আট বছর পূর্ণ হয়ে গেল। আমি ছিলাম কেরানীগঞ্জ জেলে, ম্যাডাম খালেদা জিয়া ছিলেন বকশীবাজার সাব জেলে। ভাবতেই ভাল লাগে ম্যাডাম ডাক্তারদের মাধ্যমে আমার খবর নিতেন, ভয় পেতে নিষেধ করতেন। জেলে ঢোকার পর মানুষ সম্বন্ধে যথেষ্ট জ্ঞান অর্জিত হয়েছে, কিছু মিডিয়ার কৃত্রিম প্রেমে বিষন্নও হয়েছি। গত আট বছর ধরে পাসপোর্টসহ বাকী মামলাগুলো ফেস করে জয়ী হয়েছি। আমার লার্নেড আইনজীবীগণ, বন্ধুমহল, সাধারন মানুষ, প্রিয় ফ্যান’স এবং পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞঁতা। ৫ই আগস্ট ফ্যাসিস্টের পলায়নের পর রাজনৈতিক বিবেচনায় ফেলে মামলা শেষ করার অফার ছিল, আমি রাজী হইনি। ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর ১৫ ই ফেব্রুয়ারি শেষ মামলায় হাজিরা দেয়া এবং টানা শুনানীর মধ্যে দিয়ে নিজেকে নির্দোষ প্রমান করতে পেরেছি, আলহামদুলিল্লাহ্।…’
ধারণা করা যায়, এই পোস্ট থেকে আসিফ আকবরের গ্রেফতারের দাবিটি ছড়িয়েছে।
যেহেতু অনুসন্ধানে পাওয়া ফলাফলে তার গ্রেফতারের দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি, তাই ফ্যাক্টওয়াচ দাবিটিকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে।
Claim: সঙ্গীতশিল্পী আসিফ আকবর গ্রেফতার হয়েছেন
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh