কলকাতা ভ্রমণে সতর্কতা জারি ও বাংলাদেশি পর্যটককে পিটিয়ে হত্যার দাবি ভিত্তিহীন

31
কলকাতা ভ্রমণে সতর্কতা জারি ও বাংলাদেশি পর্যটককে পিটিয়ে হত্যার দাবি ভিত্তিহীন
কলকাতা ভ্রমণে সতর্কতা জারি ও বাংলাদেশি পর্যটককে পিটিয়ে হত্যার দাবি ভিত্তিহীন

প্রায় দুই বছর পর গত ২৮ জুন, ২০২৬ থেকে বাংলাদেশিদের ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন নেওয়া শুরু করেছে ভারত। এমন প্রেক্ষিতে ফেসবুকে দাবি করা হচ্ছে, 'কলকাতায় মুসলিম বাংলাদেশি পর্যটককে পিটিয়ে হত্যা করেছে ভারতের উগ্র হিন্দুবাদীরা। আর এই ঘটনায় বাংলাদেশি পর্যটকদের কলকাতা ভ্রমনের ক্ষেত্রে সতর্কতা জারি করেছে দূতাবাস।' ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, দাবিটি ভিত্তিহীন। কোনো সংবাদমাধ্যম বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে সম্প্রতি কলকাতায় মুসলিম বাংলাদেশি পর্যটককে পিটিয়ে হত্যার দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি কলকাতা ভ্রমণ নিয়ে বাংলাদেশ সরকার থেকে কোনো সতর্কতা জারির তথ্যও খুঁজে পাওয়া যায়নি। 

ফেসবুকে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানেএখানে

প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে বাংলাদেশ বা ভারতের কোনো সংবাদমাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে কলকাতায় মুসলিম বাংলাদেশি পর্যটককে পিটিয়ে হত্যার দাবিটি নিয়ে কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। 

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এই দাবি সংক্রান্ত একাধিক ভাইরাল পোস্ট যাচাই করেও এটির পক্ষে কোনো সূত্র উল্লেখ করতে দেখা যায়নি। কিছু ফেসবুক পোস্টে এই দাবির সঙ্গে ফটোকার্ড আকারে এক ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করা হচ্ছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ফটোকার্ডটিতে ব্যবহৃত ছবিটি হিমেল হাফিজ নামে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা হয়েছে। ছবিটি ওই অ্যাকাউন্টধারীর নিজের। গত ২৯ জুন জাপান ফুটবল দলের জার্সি পরিহিত এই ছবিটি বিশ্বকাপ ফুটবলে ব্রাজিল বনাম জাপানের ম্যাচ উপলক্ষে অ্যাকাউন্টধারী আপলোড করেছিলেন। 

হিমেল হাফিজ নামের অ্যাকাউন্টটি যাচাই করে দেখা যায়, এই পোস্ট আপলোডের পরেও অ্যাকাউন্টটি সক্রিয় রয়েছে এবং এটি থেকে ভারতসহ অন্যান্য ইস্যুতে বেশ কিছু পোস্ট করা হয়েছে। এ ছাড়া তিনি নিজেও কলকাতায় মুসলিম বাংলাদেশি পর্যটককে পিটিয়ে হত্যার দাবিটি নিজের ছবি ব্যবহার করে পোস্ট করেছেন। 

আবার, ফেসবুকে প্রচারিত পোস্টগুলোতে দাবি করা হচ্ছে, কথিত এই পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় নিহত ব্যক্তির নাম ইয়াছিন মোল্লা। তিনি গোপালগঞ্জের যুবলীগের ওয়ার্ড সভাপতি কাশেম হায়দারের মেঝ ছেলে। এই সূত্রেও অনুসন্ধান করে ঘটনাটির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ সরকার কি কলকাতা ভ্রমনের ক্ষেত্রে সতর্কতা জারি করেছে

অনুসন্ধানে দাবিটির পক্ষে কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। নয়াদিল্লীতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট, কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশনের ওয়েবসাইট ঘেঁটে সাম্প্রতিক সময়ে কলকাতা ভ্রমণের ক্ষেত্রে দূতাবাসের কোনো সতর্কতা জারির তথ্য পাওয়া যায়নি।

দেশীয় কোনো সংবাদমাধ্যমেও কলকাতা ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কোনো সতর্কতা জারির তথ্য পাওয়া যায়নি।

এসব বিশ্লেষণ থেকে এটি সুস্পষ্ট যে, কলকাতায় মুসলিম বাংলাদেশি পর্যটককে পিটিয়ে হত্যা করা এবং এর ফলে কলকাতা ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সতর্কতা জারির দাবিটি ভিত্তিহীন। কোনো ধরনের তথ্যসূত্র ছাড়াই দাবিটি ফেসবুকে ছড়াচ্ছে। তাই ফ্যাক্টওয়াচ দাবিটিকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে।


Claim:
কলকাতায় মুসলিম বাংলাদেশি পর্যটককে পিটিয়ে হত্যা করেছে ভারতের উগ্র হিন্দুবাদীরা। আর এই ঘটনায় বাংলাদেশি পর্যটকদের কলকাতা ভ্রমনের ক্ষেত্রে সতর্কতা জারি করেছে দূতাবাস।

Claimed By:
Facebook Users

Rating:
False

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh