সম্প্রতি ফেসবুকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের জামিনে মুক্তি পাওয়ার একটি দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। এর সাথে যমুনা টিভির আদলে তৈরি একটি ফটোকার্ড এবং একটি ছবি যুক্ত করা হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে ব্যারিস্টার সুমন তার পরিবারের সাথে কাশিমপুর কারাগারের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। তবে ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায় যে, যমুনা টিভি এমন কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি এবং ভাইরাল হওয়া ছবিটি বাস্তব নয়। এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, কোনো মূলধারার সংবাদমাধ্যম বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে তার মুক্তি সংক্রান্ত কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
ব্যারিস্টার সুমনের সপরিবারে তোলা এই ছবিটি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করলে বেশ কিছু অসঙ্গতি দেখা যায়। প্রথমত, ছবির কয়েকজনের হাতের আঙুলের গঠন অস্বাভাবিক। দ্বিতীয়ত, কাশিমপুর কারাগারের গেটের যে স্থাপত্যশৈলী ছবিতে দেখা যাচ্ছে তা বাস্তব কারাগারের প্রবেশপথের সাথে একেবারেই মেলে না। এছাড়া গেটের ভেতরের ব্যানারের লেখাগুলো হিজিবিজি ও অস্পষ্ট, যা কোনো অর্থ তৈরি করে না।
এই অসঙ্গতিগুলো বিবেচনা করে ফেসবুক থেকে এসব ছবি নিয়ে এআই ডিটেকশন টুল ‘SynthID’ এবং ‘Hive Moderation’ দিয়ে যাচাই করা হয়। টুলগুলো বিভিন্ন মডেলের সাহায্যে বিশ্লেষণ করে জানায়, ছবিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, যমুনা টিভির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এমন কোনো ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি। অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমেও ব্যারিস্টার সুমনের মুক্তি নিয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। দ্য ডেইলি স্টার বাংলার চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যারিস্টার সুমন বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন এবং তিনি মুক্তি পাননি। প্রতিবেদনটি থেকে আরও জানা যায় যে কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি আসন্ন বার কাউন্সিল নির্বাচনে অংশ নিতে চান এবং সেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ চেয়ে তিনি হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেছেন।
তাই সবকিছু বিবেচনা করে ফ্যাক্টওয়াচ এই ফটোকার্ডকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
Claim: সম্প্রতি ফেসবুকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের জামিনে মুক্তি পাওয়ার একটি দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। এর সাথে যমুনা টিভির আদলে তৈরি একটি ফটোকার্ড এবং একটি ছবি যুক্ত করা হয়েছে।
Claimed By: Facebook users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh