ফেসবুকে প্রায় ১ মিনিটের একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, 'চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় ঢাকা-বরিশাল সাকুরা বাসে আগুন দিল বিএনপি-জামায়াত জঙ্গিরা।' ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি বাস আগুনে জ্বলছে। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, জ্বলন্ত বাসটিতে বিএনপি-জামায়াত কর্মীদের আগুন লাগিয়ে দেওয়ার দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃত ঘটনা হলো, গত ৬ অক্টোবর ঝালকাঠি-বরিশাল মহাসড়কের প্রতাপ নামক স্থানে মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে ঢাকাগামী সাকুরা পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটিতে আগুন লেগে যায়।
দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওটি থেকে কিছু কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চে বরিশাল পত্রিকা নামের একটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে একটি ছবি পাওয়া যায়। এই ছবির সঙ্গে চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় ঢাকা-বরিশাল সাকুরা বাসে আগুন দেওয়ার দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটির মিল রয়েছে।
ভিডিওটি চাঁদা না দেওয়ায় বাসে আগুন লাগানোর নয়, সড়ক দুর্ঘটনার
গত ৬ অক্টোবর প্রকাশিত এই প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, ওইদিন ঝালকাঠি-বরিশাল মহাসড়কের প্রতাপ এলাকায় ঢাকাগামী সাকুরা পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে মোটরসাইকেলটিতে আগুন ধরে যায়। পরবর্তীতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বাসটিতেও। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহীসহ অন্তত পাঁচজন দগ্ধ ও আহত হন।
একই তথ্য পাওয়া যায় ৬ অক্টোবর বেসরকারি সম্প্রচার মাধ্যম সময় টিভির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকেও। এই প্রতিবেদনে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস সূত্রে বলা হয়, ঝালকাঠি বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকা যাচ্ছিল সাকুরা পরিবহনের এই বাসটি। প্রতাপ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি বাসের নিচে ঢুকে আগুন ধরে যায়। আগুন মুহূর্তেই বাসে ছড়িয়ে পড়লে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সময় টিভির ইউটিউব চ্যানেলেও ঘটনাটি নিয়ে একটি ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটি দেখুন-
ঘটনাটি নিয়ে অন্যান্য সংবাদমাধ্যম ও ফেসবুকের পোস্টেও একই তথ্য পাওয়া যায়। চ্যানেল২৪-এর একটি প্রতিবেদন দেখুন এখানে। ফেসবুকে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে।
এসব তথ্যের ভিত্তিতে এটি নিশ্চিত হওয়া যায়, চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় ঢাকা-বরিশাল রুটের সাকুরা বাসে বিএনপি-জামায়াতকর্মীদের আগুন দেওয়ার দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি মূলত সড়ক দুর্ঘটনার। তাই ফ্যাক্টওয়াচ এমন দাবিগুলোকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে।
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh