সম্প্রতি ফেসবুকে রুমিন ফারহানার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে তাকে উদ্ধৃত করে উল্লেখ করা হচ্ছে, "মুক্তিযুদ্ধ একমাত্র আওয়ামী লীগের হাতেই নিরাপদ।" কিন্তু ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে যে, রুমিন ফারহানার একটি সাক্ষাৎকারের বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ এটি। তার মূল বক্তব্যে এই শব্দগুলো তিনি ব্যবহার করেছেন ঠিকই কিন্তু তার ভাবার্থ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই ফ্যাক্টওয়াচের বিবেচনায় আলোচিত দাবিটি বিভ্রান্তিকর।
আলোচিত ভিডিওটির উৎস খুঁজে পাওয়ার জন্য প্রাসঙ্গিক কিছু কি-ওয়ার্ড ধরে সার্চ করা হয়। যমুনা টিভির অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে রাজনীতি নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী অনুষ্ঠান “রাজনীতি” এর একটি পর্বের ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। এই অনুষ্ঠানে বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানা একজন অতিথি হিসেবে ছিলেন। চলতি বছরের ২৮ আগস্ট আপলোড হওয়া ৫৩ মিনিট ১২ সেকেন্ডের ভিডিওটি বিশ্লেষণ করলে বিভিন্ন সময় রুমিন ফারহানাকে কথা বলতে দেখা যায়। সেখানে রুমিন ফারহানা কথা বলার সময়কার কি ফ্রেমের সাথে ভাইরাল ভিডিওর মিল পাওয়া যায়।
ভিডিওর ১৯ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডে অনুষ্ঠানটির উপস্থাপক রুমিন ফারহানাকে প্রশ্ন করেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ভোটের রোডম্যাপকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি। নির্বাচন নিয়ে আপনাদের দলের যে ষড়যন্ত্রের সংশয়, সেই সংশয় এবার কি দূর হয়েছে নাকি আরও ষড়যন্ত্রের গন্ধ এখনও পেয়েই যাচ্ছেন?”
এরপরে রুমিন ফারহানা প্রশ্নের জবাব দেওয়া শুরু করেন। জবাবের মধ্যেই ২৪ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড থেকে ২৫ মিনিট ১৮ সেকেন্ড পর্যন্ত অংশে তিনি বলেন “জুলাই আগস্টের পর খুঁজে খুঁজে খুঁজে সাত জন বীরশ্রেষ্ঠর ভাস্কর্য ভাঙ্গা হলো। তাতে কি হলো? হাসিনা আবারো প্রমাণ করার বা বলার সুযোগ পেল প্রমাণ করা তো এটা ইতিহাসের ব্যাপার, বলার সুযোগ পেল যে মুক্তিযুদ্ধ একমাত্র আওয়ামী লীগের হাতেই নিরাপদ।”
তার এই বক্তব্য থেকে কেবল ‘মুক্তিযুদ্ধ একমাত্র আওয়ামী লীগের হাতেই নিরাপদ’- এই অংশটুকু সম্পুর্ন ভিন্ন অর্থ প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে ভাইরাল পোস্টগুলোতে ব্যবহার করা হয়েছে। সম্পূর্ণ বক্তব্যের মূলভাব ছিলো ভিন্ন।
সঙ্গত কারণে ফ্যাক্টওয়াচ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির উপর ভিত্তি করে করা দাবিটিকে বিভ্রান্তিকর হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
Claim: সম্প্রতি ফেসবুকে রুমিন ফারহানার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে তাকে উদ্ধৃত করে উল্লেখ করা হচ্ছে, "মুক্তিযুদ্ধ একমাত্র আওয়ামী লীগের হাতেই নিরাপদ।"
Claimed By: Facebook users
Rating: Mostly false
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh