হিন্দু বাড়িতে হামলার এই তথ্যটি ভুয়া; আক্রান্ত ও হামলাকারী দুই পক্ষই মুসলিম

63
হিন্দু বাড়িতে হামলার এই তথ্যটি ভুয়া; আক্রান্ত ও হামলাকারী দুই পক্ষই মুসলিম
হিন্দু বাড়িতে হামলার এই তথ্যটি ভুয়া; আক্রান্ত ও হামলাকারী দুই পক্ষই মুসলিম

সম্প্রতি ফেসবুকে একটি বাড়িতে ভাঙচুরের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে। ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে যে, বাংলাদেশে এক হিন্দু নারীর বাড়িতে মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকেরা হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। তবে ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। মূলত এটি লালমনিরহাটে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা। সেখানে ভুক্তভোগী এবং হামলাকারী উভয় পক্ষই মুসলিম।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে। 

ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানঃ 

ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির প্রকৃত উৎস এবং প্রেক্ষাপট জানার জন্য এর বিভিন্ন কি-ফ্রেম ব্যবহার করে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। এর ফলে সমকালের ইউটিউব চ্যানেলে ভাইরাল ভিডিওটির অনুরূপ একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়, যার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, “লালমনিরহাটে সালিশ না মানায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও মারধরের অভিযোগ কৃষক দল নেতার বিরুদ্ধে।“

পরবর্তীতে এই সূত্রের বরাতে মূলধারার গণমাধ্যমের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়। এর ফলে জানা যায়, ঘটনাটি লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের দুহুলী গ্রামের। ওই গ্রামের বাসিন্দা মো. মান্নানের পরিবারের সাথে চলবলা ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি শাহ আলমের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন মান্নানের বসতবাড়ির সীমানার মধ্যে ছাগলে ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং পরে তা সহিংসতার রূপ নেয়।

একপর্যায়ে শাহ আলম ও তার সহযোগীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে মান্নানের বসতবাড়িতে চড়াও হয় এবং ঘরে ভাঙচুর চালায়। এ সময় প্রবাসীর স্ত্রী রোজিনা বেগম বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী রোজিনা বেগম বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করে। একই সঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শাহ আলমকে তার দলীয় পদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়।

ফলে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ভিডিওটিকে ফেসবুকে ভিন্ন ক্যাপশনে সাম্প্রদায়িক রূপ দিয়ে প্রচার করা হয়েছে। তাই সবকিছু বিবেচনা করে ভাইরাল হওয়া ভিডিওর সাথে সংশ্লিষ্ট দাবিকে ফ্যাক্টওয়াচ মিথ্যা হিসেবে সাব্যস্ত করেছে। 

Claim:
বাংলাদেশে এক হিন্দু নারীর বাড়িতে মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকেরা হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে।

Claimed By:
Facebook users

Rating:
False

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh