মামা-মামির নির্যাতনের শিকার কিশোরীর ভিডিও দিয়ে মিথ্যা তথ্য প্রচার 

262
মামা-মামির নির্যাতনের শিকার কিশোরীর ভিডিও দিয়ে মিথ্যা তথ্য প্রচার 
মামা-মামির নির্যাতনের শিকার কিশোরীর ভিডিও দিয়ে মিথ্যা তথ্য প্রচার 

সম্প্রতি ফেসবুকে একটি আহত কিশোরীর ভিডিও শেয়ার করে বলা হচ্ছে যে, সে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে যে, নির্যাতনের শিকার রোজিনা আক্তার (১৫) চাঁদপুর সদর উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের বাখরপুর গ্রামের আলী আহম্মদ ভূঁইয়ার মেয়ে। মামা মামীর বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয় সে। রোজিনা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের তথ্যটি মিথ্যা। 

এ ধরনের পোস্টগুলোর কয়েকটি এখানে, এখানে, এখানে, এখানে। 

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বেশ কিছু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, এসব ঘটনা নিয়ে দেশে আলোচনা- সমালোচনা হচ্ছে। এমন  সময়ে রোজিনার স্পষ্ট মুখাবয়বের ছবিসহ ধর্ষণের তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। ‘’বিবস্ত্র নারী উলঙ্গ দেশ, এ কেমন বাংলাদেশ?’’- এ ধরণের ট্যাগলাইন দিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির দিকে ইঙ্গিত করা হচ্ছে। 

প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে মূলধারার সংবাদমাধ্যমে এই ঘটনার অনেক প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনগুলোতে সংবাদপত্রের  নীতি মেনে ভুক্তভোগীর মুখ ঝাপসা করে দেওয়া আছে। শুধু সবুজ ওড়না দেখে ভিডিওর কিশোরীকে শনাক্ত করা গেছে। 

২০২৫ সালের ৭ মার্চে এই ঘটনা নিয়ে প্রথম আলোর প্রতিবেদন করা হয়েছে, “কিশোরীকে গরম খুন্তির ছেঁকা-নির্যাতন, মামা-মামি গ্রেপ্তার”- এই শিরোনামে। প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, চাঁদপুরে কিশোরী ভাগনিকে নির্যাতনের অভিযোগে মামা-মামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নির্যাতন থেকে বাঁচতে গত ৬ মার্চ মামা-মামির বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় ওই কিশোরী। পরে স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। 

এই ঘটনা নিয়ে – “সন্তানদের দেখাশোনার জন্য আনা ভাগ্নিকে নির্যাতনের অভিযোগ, মামা-মামি কারাগারে” – এই শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সমকালও। এই প্রতিবেদনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই পিন্টু দত্তের বরাতে বলা হয়েছে, কিশোরী নির্যাতনের আসামিরা হলেন, ভুক্তভোগীর মামা আবুল মোল্লার ছেলে রুবেল মোল্লা ও তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম। শুক্রবার (৮ মার্চ) চাঁদপুর আমলি আদালতের বিচারক তাদের দুজনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এছাড়া এ ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কালেরকণ্ঠ, জাগো নিউজ, এনটিভি অনলাইন। 

 ফলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, নির্যাতিত কিশোরি ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার’ এই তথ্যযুক্ত ভিডিওপোস্টগুলো বিভ্রান্তিকর। 

Claim:
সম্প্রতি ফেসবুকে একটি আহত কিশোরীর ভিডিও শেয়ার করে বলা হচ্ছে যে, সে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার।

Claimed By:
facebook user

Rating:
Mostly false

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh