তুরাগ নদ থেকে ছাত্রলীগকর্মীদের লাশ উদ্ধারের দাবিতে ফেসবুকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ৯ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, কয়েকজন লোকের নিথর দেহ মাটিতে শুয়ে রাখা হয়েছে। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভিডিওটির সঙ্গে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া দাবির সত্যতা নেই। মূলত, চলতি বছরের গত ২৫ মে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে (যমুনা সেতু পূর্ব পাড়) রড ভর্তি ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহত হন। এই ঘটনার ভিডিওকেই তুরাগ নদ থেকে ছাত্রলীগকর্মীদের লাশ উদ্ধারের দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে।
দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে পলিটিক্যাল টাইমস নামের একটি ফেসবুক পেজে ভিডিওটি পাওয়া যায়। গত ২৫ মে এটি আপলোড করা হয়। পোস্টটির সঙ্গে তুরাগ নদ থেকে ছাত্রলীগকর্মীদের লাশ উদ্ধারের দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটির মিল রয়েছে। ক্যাপশন থেকে জানা যায়, ওইদিন ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে (যমুনা সেতু পূর্ব পাড়) রড ভর্তি ট্রাক উল্টে হতাহতের ঘটনা ঘটে। তখনো উদ্ধার কাজ চলছিল।
এই সূত্রে পরে আরও খোঁজ নিয়ে বেশ কিছু ফেসবুক পেজ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে হতাহতের শিকার একই ব্যক্তিদের ছবি ও ভিডিও পাওয়া যায়। এমন কিছু ভিডিওর লিংক এখানে, এখানে।
এসব ভিডিও ও ছবি থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়, ঘটনাটি গত ২৫ মের এবং এর সঙ্গে তুরাগ নদ থেকে ছাত্রলীগকর্মীদের লাশ উদ্ধারের দাবিটির কোনো সম্পর্ক নেই।
প্রসঙ্গত, গত ২৫ মে ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে একটি রডবোঝাই ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহত হন এবং ছয়জন গুরুতর আহত হন। মহাসড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ফলে ফ্যাক্টওয়াচ দাবিটিকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ ও ২৫ জুন তুরাগ নদ থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এদের মধ্যে একজন ঢাকার তুরাগ থানার রানাভোলা এলাকার বাসিন্দা মো. সুমন (১৭)। অন্য দুজন হলেন, তুরাগ থানার রানাভোলা এলাকার আরিফ হাসান রাকিব ও রাজধানীর মনিপুর মোল্লাপাড়ার রনি মোল্লা।
প্রথম আলোর গত ২৭ জুন প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে সুমন সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে, তার ফেসবুক আইডি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ৬ দিন আগে সর্বশেষ আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একটি শোভাযাত্রার ভিডিও আপলোড করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় দলীয় কার্যক্রমের ভিডিও আপলোড করা হয়েছে।
নিহত আরিফের চাচা মো. আরশাদুল ইসলামকে উদ্ধৃত করে প্রথম আলো লিখেছে, ‘২২ জুন বেলা ১১টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে যায় আরিফ। ওই দিন বিকেল ৪টার একটু আগে মোবাইলে মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছিল তার। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিল। গত বুধবার তুরাগ নদ থেকে তার লাশ উদ্ধার হয়। সে যে রাজনীতি (আওয়ামী লীগের) করত, পরিবার সেটা জানত না। মৃত্যুর পর কয়েকজন ভিডিও–ছবি দেখানোর পর জানতে পারে রাজনীতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা।’
এ ছাড়া ডিজিটাল ইনভেস্টিগেটিভ মিডিয়া আউটলেট দ্য ডিসেন্টের একটি প্রতিবেদন থেকেও জানা যায়, মরদেহ উদ্ধার করা নিহত আরিফ ও সুমনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল।
Claim: তুরাগ নদ থেকে ছাত্রলীগকর্মীদের লাশ উদ্ধারের ভিডিও
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh