নাটোর জেলা যুবলীগের নিহার বিশ্বাস নামে এক কর্মীকে না পেয়ে তার শিশু সন্তানকে মাটিতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে ফেসবুকে একটি শিশুর ছবি শেয়ার করা হচ্ছে। দাবি করা হচ্ছে, শিশুটি বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে, শিশুর হাত-মুখ ব্যান্ডেজ করা। ফ্যাক্টওয়াচের যাচাইয়ে দেখা যায়, আহত শিশুটির ছবি নাটোর বা বাংলাদেশের নয়। এটি লেবাননে ২০২৪ সালে ইসরায়েলি হামলায় আহত ইভানা নামে এক শিশুর ছবি।
রিভার্স ইমেজ সার্চে বিবিসি নিউজের ওয়েবসাইটে ২০২৪ সালের ২৬ অক্টোবরে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ছবিটি পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটির শিরোনাম থেকে জানা যায়, ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দগ্ধ হওয়া এক শিশুর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করছেন তার বাবা। প্রতিবেদনটিতে শিশুটির নাম উল্লেখ করা হয়েছে ইভানা।
বিবিসি ছাড়াও বিভিন্ন বিদেশি সংবাদমাধ্যম থেকেও ছবিটি সম্পর্কে একই বর্ণনা পাওয়া যায়। এমন কিছু প্রতিবেদনের লিংক এখানে, এখানে, এখানে।
নাটোরে কি এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে?
প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে সাম্প্রতিক সময়ে নাটোরে প্রচারিত ঘটনাটির মতো কোনো ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সম্প্রতি সহিংসতার কিছু তথ্য পাওয়া যায়। যেমন, গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নাটোর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের চোয়াড়ি গ্রামে পারিবারিক কলহ ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের দেশীয় অস্ত্রের হামলায় আড়াই বছরের এক শিশুসহ একই পরিবারের তিনজন গুরুতর আহত হন।
তারা হলেন, বিউটি বেগম (৪৫), ছেলে বাহারউদ্দিন (২৫) এবং মাত্র আড়াই বছরের শিশু সন্তান বাহারাম। তারা যথাক্রমে নূর মোহাম্মদ নামে এক ব্যক্তির স্ত্রী ও সন্তান।
আরেকটি ঘটনা পাওয়া যায় নাটোরের গুরুদাসপুরের। এখানে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। তবে এই ঘটনায় কোনো শিশু আহত হওয়া ও পরবর্তীতে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনের লিংক এখানে, এখানে।
এসব ঘটনায় নিহার বিশ্বাস নামে কারও নাম পাওয়া যায়নি। ফলে ফ্যাক্টওয়াচ আলোচিত ছবিযুক্ত দাবিটিকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে।
Claim: নাটোর জেলা যুবলীগের নিহার বিশ্বাস নামে এক কর্মীকে না পেয়ে তার শিশু সন্তানকে মাটিতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে ফেসবুকে একটি শিশুর ছবি শেয়ার করা হচ্ছে।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh