বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভেরিফায়েড ফেসবুকে পেজে গণতন্ত্র দিবসের পোস্ট এডিট করে একজন আলেমের মৃত্যুর শোকবার্তা দেওয়া হয়েছে দাবিতে একটি পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। ফেসবুকের পোস্টগুলোতে এই দাবির সঙ্গে পোস্টের এডিট হিস্ট্রির একটি ছবি 'প্রমাণ' হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, তারেক রহমানের ফেসবুক পেজে গণতন্ত্র দিবস ও আলেমের মৃত্যু নিয়ে আলাদা আলাদা পোস্ট দেওয়া হয়েছে। গণতন্ত্র দিবসের পোস্ট এডিট করে আলেমের মৃত্যুর শোকবার্তা দেওয়া হয়নি।
(এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর আমাদের কাছে কেউ কেউ জানান যে তারেক রহমান এই পোস্টটি করেছিলেন কিন্তু পরবর্তীতে সেটি সরিয়ে ফেলা হয়। কিন্তু আমাদের অনুসন্ধানে তারেক রহমানের সেই পোস্টটি পাওয়া যায়নি, বরং আলাদা দুইটি পোস্ট পাওয়া যাচ্ছে। তবে এমনও হতে পারে যে পোস্টটি করা হয়েছিলো পরে সরিয়ে নেয়া হয়। যেহেতু এখানে সন্দেহের জায়গা রয়েছে সেহেতু আমরা এই প্রতিবেদনের রেটিং পরিবর্তন করে "অপ্রমাণিত" করেছি।)
পোস্টটির এডিট হিস্ট্রি চেক করে দেখা যায়, এটি পোস্ট করার পর ৭টা ৪২ মিনিট ও ১০টা ৮ মিনিটে দুইবার এডিট করা হয়েছে। তবে কোনোবারেই এতে গণতন্ত্র দিবস নিয়ে কোনো আলোচনা ছিল না। পোস্টটির মূল বিষয়বস্তু ছিল চট্টগ্রামের আল জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া মাদরাসার শিক্ষক মুফতি আহমদুল্লাহর মৃত্যুতে শোকবার্তা।
চট্টগ্রামের আল জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া মাদরাসার শিক্ষক মুফতি আহমদুল্লাহর মৃত্যুতে তারেক রহমানের শোকবার্তা ও এডিট হিস্ট্রি
গণতন্ত্র দিবস নিয়ে তারেক রহমানের পোস্ট ও এডিট হিস্ট্রি
সন্ধ্যা ৭টা ১৪ মিনিটে দেওয়া এই পোস্টটির কমেন্টবক্স যাচাই করেও দেখা যায়, ফেসবুক ব্যবহারকারীরাও মুফতি আহমদুল্লাহর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছেন। যেমন, ৭টা ১৬ মিনিটে ইবনে আমিন ফেনী নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে কমেন্ট করা হয়েছে, ‘তিনি আমার বুখারী শরীফ ও তিরমিযী শরীফের ওস্তাদ ছিলেন। আল্লাহতালা হযরতকে জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম দান করুন।’
মুফতি আহমদুল্লাহর মৃত্যুতে তারেক রহমানের শোকবার্তা ও কমেন্টবক্সের কমেন্ট
৭টা ১৫ মিনিটে এমডি সজল নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে কমেন্ট করা হয়েছে, ‘আল্লাহ হজুর কে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন, আমিন আমিন আমিন আমিন।’ ৭টা ১৭ মিনিটে মীর তুষার নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে কমেন্ট করা হয়েছে, ‘ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করছি বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বাংলাদেশের প্রাণ জনাব তারেক রহমান জিন্দাবাদ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মেহেরপুর।’
এসব কমেন্ট থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়, পোস্টটি দেওয়াই হয়েছিল চট্টগ্রামের আল জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া মাদরাসার শিক্ষক মুফতি আহমদুল্লাহর মৃত্যু নিয়ে। কোনো সম্পাদনা করা হয়নি। অর্থাৎ পোস্টের বিষয়বস্তু ও কমেন্টবক্স প্রাসঙ্গিক।
সংশোধনীঃ এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর আমাদের কাছে কেউ কেউ জানান যে তারেক রহমান এই পোস্টটি করেছিলেন কিন্তু পরবর্তীতে সেটি সরিয়ে ফেলা হয়। কিন্তু আমাদের অনুসন্ধানে তারেক রহমানের সেই পোস্টটি পাওয়া যায়নি, বরং আলাদা দুইটি পোস্ট পাওয়া যাচ্ছে। তবে এমনও হতে পারে যে পোস্টটি করা হয়েছিলো পরে সরিয়ে নেয়া হয়। যেহেতু এখানে সন্দেহের জায়গা রয়েছে সেহেতু আমরা এই প্রতিবেদনের রেটিং পরিবর্তন করে “অপ্রমাণিত” করেছি।
No Factcheck schema data available.
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh