ছাত্রলীগ কর্মীর জেল থেকে জিপিএ-৫ পাওয়ার দাবি ভিত্তিহীন, ছবিটি এআই জেনারেটেড 

65
ছাত্রলীগ কর্মীর জেল থেকে জিপিএ-৫ পাওয়ার দাবি ভিত্তিহীন, ছবিটি এআই জেনারেটেড 
ছাত্রলীগ কর্মীর জেল থেকে জিপিএ-৫ পাওয়ার দাবি ভিত্তিহীন, ছবিটি এআই জেনারেটেড 

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল গতকাল সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত হয়েছে। এই ফলাফল প্রকাশের পর ফেসবুকে একটি তথ্য শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, নোয়াখালী জেলা কারাগারে বন্দি থাকা ছাত্রলীগ কর্মী জোনায়েদ এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এই দাবির সঙ্গে এক শিক্ষার্থীর ছবিও শেয়ার করা হচ্ছে। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দাবিটির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। এই দাবিতে যে ছবিটি শেয়ার করা হচ্ছে সেটিও  এআই জেনারেটেড। নোয়াখালী জেলা কারাগার সূত্রে জানা যায়, এখান থেকে দুইজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। এদের একজনের নাম মাহবুব এলাহী রাজিন, অন্যজন আলভী। এ ছাড়া জোনায়েদ নামে কোনো পরীক্ষার্থী জেলা কারাগার থেকে পরীক্ষা দেয়নি বলে কারা কর্তৃপক্ষ ফ্যাক্টওয়াচকে নিশ্চিত করেছে। 

ফেসবুকে প্রচারিত এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানেএখানে। 

প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে দেশের নির্ভরযোগ্য কোনো সংবাদমাধ্যমে দাবিটির সত্যতা নিয়ে কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। তবে ইনফো বাংলা নামে একটি ওয়েবসাইট, ফ্রিডম বাংলা নিউজ নামে একটি ফেসবুক পেজে দাবিটি নিয়ে পোস্ট পাওয়া যায়। তবে এসব প্রতিবেদন ও পোস্টে কথিত এই ছাত্রলীগ কর্মী জোনায়েদ কোন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, কোন কেন্দ্র থেকে পরীক্ষা দিয়েছেন সেটির কোনো উল্লেখ নেই। 

 অপরদিকে জোনায়েদ দাবিতে প্রচারিত ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চে নির্ভরযোগ্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পাওয়া যায়নি। 

বরং ছবিটিতে বেশ কিছু অসঙ্গতি নজরে পড়ে। যেমন, কথিত ছাত্রলীগ কর্মী জুনায়েদের ছবিটি নোয়াখালী জেলা কারাগারের একটি ফটকের ওপর ডিজিটালি সম্পাদনা করে বসানো হয়েছে। এই ফটকের পিলারে বাংলায় শুভ নববর্ষ (এখানে শুভ লেখাটা কিছুটা অস্পষ্ট), ১৬ দিন এবং এটির নিচে বাংলায় অস্পষ্টভাবে কিছু লেখা। এআই জেনারেটেড ছবিতে লেখার ক্ষেত্রে এমন অস্পষ্টতা দেখা যায়। 

এই ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে পাওয়া যায়। এসব প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবিটির সঙ্গে ভাইরাল ছবিটির অমিল রয়েছে। যেমন, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে পাওয়া ছবিগুলোতে একই জায়গায় লেখা, ১৪৩২ বাংলা। 

এই প্রতিবেদনগুলো থেকে জানা যায়, চলতি বছরের ২১ এপ্রিল শুরু হওয়া এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় নোয়াখালী জেলা কারাগার থেকে মাহবুব এলাহী রাজিন (১৫) নামের এক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তিনি নোয়াখালী সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের বাসিন্দা। মাহবুব নোয়ান্নই উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তার পরীক্ষা কেন্দ্র নোয়াখালী জিলা স্কুল। কারাগারের অভ্যন্তরে বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে জিলা স্কুল কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে তার পরীক্ষা নেওয়া হয়। রাজিন একটি হত্যা মামলার আসামী। 

এই স্কুলের ফেসবুক পেজ থেকে নাম্বার সংগ্রহ করে যোগাযোগ করা হলে জানা যায়, মাহবুব এলাহী রাজিন নামের এই শিক্ষার্থীর ফলাফলের সাথে ভাইরাল দাবিটি সাংঘর্ষিক।

নোয়াখালী জেলা কারাগার থেকে জোনায়েদ নামে কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেয়নি

দাবিটির সত্যতা নিশ্চিত হতে নোয়াখালী জেলা কারাগারের জেল সুপার আ. বারেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি ফ্যাক্টওয়াচকে জানান, নোয়াখালী জেলা কারাগার থেকে দুইজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। এদের একজনের নাম মাহবুব এলাহী রাজিন, অন্যজন আলভী। এদের একজন পুরো পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন আরেকজন একটি বিষয়ে। 

জোনায়েদ নামে কোনো পরীক্ষার্থী এই কারাগার থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেয়নি বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। 

ভাইরাল ছবিটি এআই জেনারেটেড 

ফ্যাক্টওয়াচের যাচাইয়ে দেখা যায়, কথিত ছাত্রলীগ কর্মী জোনায়েদ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত ছবিটি এআই জেনারেটেড। ছবিটিতে যে অসঙ্গতি নজরে পড়ে, তা ইতিপূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া একাধিক এআই জেনারেটেড কনটেন্ট শনাক্তকারী টুলের সহায়তায় ছাত্রলীগ কর্মী জোনায়েদের ছবিটি যাচাই করেও একই ফলাফল পাওয়া যায়। 

যেমন, ইমেজ হোইজস্পেরারের টুলের সাহায্যে কেবল জোনায়েদের ছবিটি বিশ্লেষণ করলে টুলটি এটি এআই জেনারেটেড বলে জানায়। 

একই ফলাফল পাওয়া যায় হাইভের বিশ্লেষণেও। টুলটি এআই জেনারেটেড হওয়ার সম্ভাবনা জানায় প্রায় ৯৫ শতাংশ।

সাইট ইঞ্জিন নামে আরেকটি টুল পুরো ছবিটি এআই হওয়ার সম্ভাবনা জানিয়েছে ৯৯ শতাংশ। 

সার্বিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, নোয়াখালী জেলা কারাগারে বন্দি থাকা ছাত্রলীগ কর্মী জোনায়েদ এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়ার দাবিটি ভিত্তিহীন এবং এই দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ছবিটি এআই জেনারেটেড। ফলে ফ্যাক্টওয়াচ দাবিটিকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে। 

Claim:
নোয়াখালী জেলা কারাগারে বন্দি থাকা ছাত্রলীগ কর্মী জোনায়েদ এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছেন

Claimed By:
Facebook users

Rating:
False

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh