এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তিকে ধারলো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার একটি ভিডিও ফেসবুকে শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে যে, এটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনা। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে যে, ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনাটি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে কলম্বিয়ায় ঘটেছিল।
ফেসবুকে ভিডিওটি শেয়ার হয়েছে বিভিন্ন ক্যাপশনে। ‘জেন জি আওয়ামী (Gen Z Awami)’ নামের একটি আইডিতে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে- “এবারে প্রকাশ্যে যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করলো মব সন্ত্রাসীরা।” ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ নামের আইডিতে ভিডিওটি শেয়ার হয়েছে এই ক্যাপশনে– “দেশটাকে যেনো নরকে পরিণত করেছে ইউনূস সরকার।”
অর্থাৎ ঘটনাটি বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটেছে এমন দাবি করা হয়েছে।
ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধান
ভিডিওটির বিভিন্ন কি-ফ্রেমের সাহায্যে রিভার্স ইমেজ সার্চে ২০২৪ সালের ২৬ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ‘এক ক্ল্যারিন (El CLARIN)’ নামের স্প্যানিশ ভাষার এই অনলাইন পত্রিকাটি ভেনেজুয়েলা থেকে প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, কুকুতা (CUCUTA) এলাকায় ভয়ঙ্কর একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোড়ন তুলেছে। একটি সেতুর নিচে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ভয়ংকর দৃশ্য শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে মাইক্রোট্রাফিকিং (ক্ষুদ্র মাদক পাচার) নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকে সৃষ্টি হওয়া প্রতিশোধের সম্ভাবনা রয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত বছরের ১৪ থেকে ১৬ জানুয়ারির মধ্যে।
এই প্রতিবেদনটির সঙ্গে একটি ছবি যুক্ত রয়েছে, যেটি ফেসবুকে ছড়ানো ভিডিওর অংশ।
উল্লেখ্য, কুকুতা কলম্বিয়ার, ভেনেজুয়েলা সীমান্তের একটি এলাকা। এই এলাকাটি দুই দেশের মধ্যে মাদক পাচারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি অপরাধপ্রবণ এলাকা। এ নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের একটি প্রতিবেদন দেখুন, এখানে।
প্রসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে আরও একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ২০২৪ সালের ১২ এপ্রিলে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনের সঙ্গে দুটি স্থিরছবি যুক্ত আছে, যা আলোচিত ভিডিওর অংশ। উক্ত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, একটি ভয়াবহ ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে, যা অনলাইন জগতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, আন্দ্রেস আলবার্তো নামের এক ব্যক্তিকে কলম্বিয়ার কুকুতা এলাকার একটি সেতুর নিচে হামলা করা হয়েছে। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, আন্দ্রেসকে তিনজন ব্যক্তি ঘিরে ফেলেছে যাদের একজনের হাতে ছুরি। মনে হচ্ছে, তারা তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। আক্রমণকারীদের ব্যবহার ছিল নির্মম। তারা অত্যন্ত হিংস্রভাবে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আন্দ্রেস আত্মরক্ষার চেষ্টা করলেও হামলাকারীদের সহিংসতায় সে পরাস্ত হয়। আন্দ্রেস আলবার্তোর দেহে ৫০টিরও বেশি ছুরিকাঘাত করা হয়। তার মাথা, বুক, পেট ও পিঠে গুরুতর আঘাত লাগে, এতে তার মৃত্যু হয়।
প্রতিবেদন দুটি পর্যালোচনা করে এবং ছবি ও ভিডিও মিলিয়ে দেখে এটি নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ছুরিকাঘাতে হত্যার ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়, কলম্বিয়ার। ফলে সঙ্গত কারণে, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনা দাবি করা ফেরসবুক পোস্টগুলোকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হলো।
Claim: এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তিকে ধারলো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার একটি ভিডিও ফেসবুকে শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে যে, এটি বাংলাদশের সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনা।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh