এই ছবির সাথে  ঘূর্ণিঝড় রিমালের কোনো সম্পর্ক নেই

174
এই ছবির সাথে  ঘূর্ণিঝড় রিমালের কোনো সম্পর্ক নেই
এই ছবির সাথে  ঘূর্ণিঝড় রিমালের কোনো সম্পর্ক নেই

Published on: [post_published]

ফেসবুকে যা ছড়াচ্ছেঃ সমুদ্র সৈকতে কোনো একটি স্থাপনার সামনে পড়ে থাকা ময়লা-আবর্জনার একটি ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ছে। দাবি করা হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় রিমালের পরে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এমন  চিত্র ধারণ করেছিল। কিছু কিছু পোস্টে আবার ছবিটিকে চট্টগ্রামের বলে দাবি করা হয়।

আসল ঘটনাঃ  দাবিটি মিথ্যা। ছবিটি কক্সবাজার বা চট্টগ্রাম সমুদ্র সৈকতের আসল কোনো ছবি নয় এবং এর সাথে ঘুর্ণিঝড় রিমালেরও কোনো সম্পর্ক নেই। রিমাল আঘাত হানার অনেক আগে থেকেই ছবিগুলো বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুঁজে পাওয়া যায়। মূলত এই ছবিটি মুম্বাইয়ের ভার্সোভার জেপি রোডে অবস্থিত পাম বিচ অ্যাপার্টমেন্ট এর প্লট নং ৩১ এর প্রাঙ্গণ থেকে তোলা হয়েছিল। ছবিটি কমপক্ষে ২০১৯ সাল থেকে বিভিন্ন ​​সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুঁজে পাওয়া যায়।​​

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এমন কিছু পোষ্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে

ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানঃ

ঘূর্ণিঝড় রিমাল গত ২৬ মে সন্ধ্যা ৬টার পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ উপকূল, বাংলাদেশের মোংলা এবং খেপুপাড়া উপকূলে আঘাত হানতে শুরু করে। এইদিন সকাল থেকে কক্সবাজারের সাগর উত্তাল ছিল এবং জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে দুই থেকে তিন ফুট বৃদ্ধি পেয়েছিল। সমুদ্রের ঢেউয়ে কক্সবাজার সমুদ্র  সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট প্লাবিত হয়েছিল। তাছাড়া, চট্টগ্রামে সমুদ্র সৈকতে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট উচ্চতায় জোয়ারের পানি উঠে এসেছিল। এরপরে ভাটার টান পড়ার পরে  পানি নামতে শুরু করে। ঘূর্ণিঝড় রিমালের পরবর্তী অবস্থার চিত্র দাবি করে আলোচিত ছবিটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার জন্য শুরুতেই ছবিটি ব্যবহার করে রিভার্স ইমেজ অনুসন্ধান করা হয়। অনুসন্ধানে r/pics নামের একটি রেডিট (reddit) অ্যাকাউন্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯-এ আপলোড করা ভাইরাল ছবিটির অনুরূপ একটি ছবি পাওয়া যায়। এর কমেন্ট সেকশনে ছবিটির উৎস হিসেবে Deepak Mohoni নামের একটি এক্স (সাবেক টুইটার)অ্যাকাউন্টের লিংক যুক্ত করে দেয়া হয়। সেখানে প্রবেশ করেও হুবহু ভাইরাল ছবিটি দেখা যায়। এছাড়াও সেখানে উল্লেখ করা হয় যে, ছবিটি মুম্বাইয়ের ভার্সোভায় অবস্থিত পাম বিচ অ্যাপার্টমেন্টের সমুদ্র অভিমুখী প্রাঙ্গণ থেকে তোলা হয়েছিল।

পরবর্তীতে, ছবিটি আসলেই মুম্বাইতে অবস্থিত পাম বিচ অ্যাপার্টমেন্ট প্রাঙ্গণের কি না  এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রাসঙ্গিক কিছু কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধান করে ফ্যাক্টওয়াচ টিম। অনুসন্ধানে RAFIQUE MERCHANT নামের একটি ইউটিউব চ্যানেল থেকে ৮ জুলাই ২০১৯-এ আপলোড করা একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা ছিল “সী-ফেসিং 1BHK, পাম বিচ অ্যাপার্টমেন্ট, জেপি রোড, ভারসোভা, আন্ধেরি ওয়েস্ট” (অনুবাদিত)। ভিডিওটি মূলত পাম বিচ অ্যাপার্টমেন্ট নামের একটি আবাসিক বিল্ডিং এর বিস্তারিত বিবরণ।   ভিডিওর শুরুতেই অ্যাপার্টমেন্টটির প্রধান প্রবেশদ্বার দেখা যায়। এর সাথে লাগানো একটি নেইমপ্লেটে  ঠিকানা হিসেবে প্লট নং ৩১, জেপি রোড ভার্সোভা(PLOT NO.31, J.P.ROAD VERSOVA) লেখা। গুগল ম্যাপের সাহায্যে এই ঠিকানার ২০২১ সালের ডিসেম্বরের একটি স্যাটেলাইট ভিউ দেখা হয়, সেখানে পাম বিচ অ্যাপার্টমেন্ট খুঁজে পাওয়া যায়।

এরপর, ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে ২৬ সেকেন্ড থেকে ২৮ সেকেন্ড পর্যন্ত অংশটুকুর সাথে ভাইরাল ছবিটির বেশ কিছু মিল খুঁজে পাওয়া যায় যেমনঃ সিঁড়ি, আঙিনা, সমুদ্র, সীমানা প্রাচীর ইত্যাদি।

অর্থাৎ, সবকিছু বিবেচনা করে  নিশ্চিত হওয়া যায় যে, আলোচিত ছবিটি মুম্বাইএর ভারসোভা থেকে তোলা যা, ঘূর্ণিঝড় রিমাল আঘাত হানার অনেক বছর আগের। এর সাথে কক্সবাজার বা চট্টগ্রাম সমুদ্র সৈকতের কোনো সম্পর্ক নেই।  তাই ফ্যাক্টওয়াচের বিবেচনায় ভাইরাল পোষ্টগুলো মিথ্যা।

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে।।
এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকেঃ
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh

No Factcheck schema data available.