”কুমিল্লায় এক মসজিদে ঢুকে হিন্দুরা কুরআন শরীফ ছিড়ে মলমূত্র ত্যাগ করে আসলো”- শিরোনামে একটি খবর এবং ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এটি প্রকৃতপক্ষে ২০১৬ সালের ঘটনা। তখন মানসিক ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তি মসজিদে ঢুকে এই ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। তার নাম জাহাঙ্গীর এবং তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন না। সঙ্গত কারণে ফ্যাক্টওয়াচ এটিকে “মিথ্যা” সাব্যস্ত করছে।‘
এই পোস্টে বলা হচ্ছে, কুমিল্লায় এক মসজিদে ঢুকে হিন্দুরা কুরআন শরীফ ছিড়ে মলমূত্র ত্যাগ করে আসলো কাদের ছায়াতলে?
মসজিদে ঢুকে কুরআন শরীফ ছিড়ে সেখানে মলমূত্র ত্যাগ করে যায় এর চাইতে বড় অবমাননা আর কি আছে?
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ধান্যদৌল গ্রামের একটি জামে মসজিদে মল-মূত্র ত্যাগ, ২৫/৩০ টি কোরআন শরীফ ছিড়ে ফেলা, কোরআন রাখার রেল ও মসজিদের ৪ টি জানালার গ্লাস ভাংচুর করার খবর পাওয়া গেছে। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ধান্যদৌল গ্রামের বাজারের জামে মসজিদে মঙ্গলবার গভীর রাতে হিন্দুরা মূল দরজার তালা খুলে প্রবেশ করে। পরে মসজিদের ৪টি জানালার গ্লাস, কোরআন শরীফ রাখার বেশ কিছু রেল ভাংচুর, ২৫/৩০টি পবিত্র কোরআন শরীফ ছিড়ে ফেলে এবং মসজিদের মেহরাব সংলগ্নস্থানে মল-মূত্র ত্যাগ করে পূণরায় দরজায় তালা আটকিয়ে পালিয়ে যায়।
অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, ২০১৬ সালের ১৮ই অক্টোবর এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল। সেসময় মানসিক বিকারগ্রস্থ জনৈক ‘জাহাঙ্গীর আলম’ কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার একটি মসজিদে একজন লোক তালা ভেঙে প্রবেশ করে, সেখানে মলত্যাগ করে এবং মসজিদে থাকা কয়েকটি কুরআনের কপি ছিঁড়ে ফেলে। এসময় মসজিদে কেউ না থাকলেও পরদিন সকালে মুসল্লিরা এসে এটা দেখতে পায় , এবং অনুসন্ধানে জাহাঙ্গীর আলম এর সম্পৃক্ততা ধরা পড়ে।
বিডিফ্যাক্টচেকে কুমিল্লার একটি স্থানীয় পত্রিকা, (কুমিল্লার কাগজ) কে উদ্ধৃত করে বলা হয়,
“কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার ধান্যদৌল বাজার জামে মসজিদের ভিতরে পবিত্র কোরআন শরীফ ছিঁড়ে ফেলা এবং মসজিদের জানালার গ্লাস ভাঙ্গা ও মল ত্যাগের ঘটনায় পুলিশ জাহাঙ্গীর আলম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। সে একই এলাকার সামছু মিয়ার ছেলে। এক দশকেরও বেশি সময় সৌদীতে থাকা জাহাঙ্গীর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলে জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো: শাহ আবিদ হোসেন। তিনি জানান, জাহাঙ্গীরের এই মানসিক বিপর্যস্ততার কারণ পারিবারিক কিংবা সামাজিকভাবে আঘাত প্রাপ্তি। সোমবার দুপুরে কুমিল্লা পুলিশ অফিসে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ সব তথ্য জানান। গত ২২ অক্টোবর জাহাঙ্গীর আলমকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১৮ অক্টোবর দিবাগত রাতে ফজরের নামাজের দুই ঘন্টা পূর্বে ব্রাহ্মণপাড়ার ধান্যদৌল বাজার জামে মসজিদের পবিত্র কোরআন শরীফ ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং মসজিদের জানালার গ্লাস ভেঙ্গে ফেলা ও মল ত্যাগ করা হয়। এর আগেও গ্রেপ্তারকৃত জাহাঙ্গীর আলম ধান্যদৌল চৌধুরী বাড়ি জামে মসজিদেও প্রবেশ করে পবিত্র কোরআন শরীফ ছিঁড়ে ফেলে।
সাংবাদিক সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, আসামী জাহাঙ্গীর জিজ্ঞাসাবাদে বলেছে ধান্যদৌল মসজিদর ইমাম ঠিকমত কোরআন তেলওয়াত করতে পারে না। আকামত দেয়ার সময় ইমাম সাহেব বসে থাকেন ও তৃতীয়ত বাংলাদেশে মুদ্রিত পবিত্র কোরআন শরীফ ভুলভাবে মুদ্রিত। এসব কারণে সে এসব কাজ করেছে।
পুলিশ সুপার মো: শাহ আবিদ হোসেন বলেছেন, ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত আসামী মো: জাহাঙ্গীর আলম(৩৫) কে গত ২২ অক্টোবর সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মো: জাহাঙ্গীর আলম কুমিল্লার আমলী আদালত-২ এর জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো: তারিক আজিজের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি দেয়ার সময় তার চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছিল। ঐ ঘটনা ঘটানোর জন্য তাকে অনুতপ্ত হতে দেখা যায়।”
ফ্যাক্টওয়াচের সিদ্ধান্ত
যেহেতু এই ঘটনাটি ৫ বছরের পুরনো ঘটনা, এবং এখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কারো সংযোগ ছিল না, তাই সার্বিক বিবেচনায় ফ্যাক্টওয়াচ এই পোস্টকে ‘মিথ্যা’ সাব্যস্ত করছে।
আপনি কি এমন কোন খবর দেখেছেন যার সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন? কোন বিভ্রান্তিকর ছবি/ভিডিও পেয়েছেন? নেটে ছড়িয়ে পড়া কোন গুজব কি চোখে পড়েছে?