চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে গ্রামবাসীর সাম্প্রতিক সংঘর্ষের প্রেক্ষিতে ফেসবুকে একটি ফটোকার্ড ঘুরে বেড়াচ্ছে। ফটোকার্ডে দাবি করা হচ্ছে, এ সংঘর্ষে ইফতি নামের এক শিশু শিবিরের গুলিতে নিহত হয়েছে।
কিন্তু ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে জানা যাচ্ছে, ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ছবির শিশুটি ভারতের মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা ছিল। মোবাইল ফোন কিনে না দেওয়ায় আত্মহত্যা করে সে।
অনুসন্ধানে মূলধারার গণমাধ্যমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের গুলিতে কোনো শিশু নিহত হয়েছে এর স্বপক্ষে কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। শুধুমাত্র দৈনিক দিনপত্র ও মুক্তিবার্তা৭১ নামক দুইটি ওয়েবসাইটে এমন সংবাদ পাওয়া যায়। এই পোর্টালগুলোকে সূত্র ধরেই ফেসবুকে ফটোকার্ডগুলো ছড়ায়।
নিউজ পোর্টাল দুইটিতে নিহত “ইফতি”র ছবি হিসেবে একই শিশুর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা NDTV এবং NewsKarnataka থেকে ৪ আগস্ট, ২০২৫ তারিখ প্রকাশিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়।
প্রতিবেদনগুলো থেকে জানা যাচ্ছে, অথর্ব গোপাল তায়দে নামক ১৬ বছরের শিশুটি ভারতের মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা ছিল। বাড়ি থেকে মোবাইল ফোন কিনে না দেওয়ায় সে পাহাড় থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করে। অথর্ব পুলিশবাহিনীতে ঢোকার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলো।
এনডিটিভি ছাড়াও একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম (১,২) এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
এসব তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে, ভারতীয় এক শিশুর ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে মিথ্যা সংবাদ ছড়ানো হচ্ছে। তাই ফ্যাক্টওয়াচ এসব পোস্টকে “মিথ্যা” হিসেবে চিহ্নিত করছে।
Claim: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে গ্রামবাসীর সাম্প্রতিক সংঘর্ষের প্রেক্ষিতে ফেসবুকে একটি ফটোকার্ড ঘুরে বেড়াচ্ছে। ফটোকার্ডে দাবি করা হচ্ছে, এ সংঘর্ষে ইফতি নামের এক শিশু শিবিরের গুলিতে নিহত হয়েছে।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh