নরসিংদী রেলস্টেশনে দুর্ঘটনার ভিডিও বানোয়াট ক্যাপশনে প্রচার 

12
নরসিংদী রেলস্টেশনে দুর্ঘটনার ভিডিও বানোয়াট ক্যাপশনে প্রচার 
নরসিংদী রেলস্টেশনে দুর্ঘটনার ভিডিও বানোয়াট ক্যাপশনে প্রচার 

একজন ব্যক্তি কাঁধে করে একটি নারীদেহ ও কোলে একটি শিশু নিয়ে আরেক শিশুর হাত ধরে হেঁটে যাচ্ছে, সম্প্রতি এ ধরনের একটি ভিডিও ফেসবুকে শেয়ার করা হচ্ছে। ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, নরসিংদীতে ট্রেনের ভেতরে মাকে ধর্ষণের পরে ছোট বাচ্চাকে হত্যা করা হয়েছে। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, ট্রেনের ধাক্কায় শিশু সন্তানসহ ওই নারীর মৃত্যু হয়। এই ঘটনার সঙ্গে ধর্ষণ ও খুনের সম্পর্ক নেই।

এ ধরনের পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে। 

অনুসন্ধানের প্রথম ধাপে ভিডিওটির কয়েকটি কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চে একটি ফেসবুক পোস্ট পাওয়া যায়। এ বছরে ২৭ মে’র এই পোস্টে ভিডিওর সঙ্গে ক্যাপশনে বলা হয়, “একটু আগে নরসিংদী স্টেশনে ট্রেনে কাটা পড়ে একটা বাচ্চা এবং মহিলা মারা গেছে।” এই পোস্টের ভিডিওর সঙ্গে আলোচ্য ভিডিওটির মিল রয়েছে। 

দ্বিতীয় ধাপে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে মাছরাঙা টেলিভিশনের একটি ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২৭ মে রাতে রেল লাইন পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় চার সদস্যের পরিবারটির দুইজন মারা যায়। এই প্রতিবেদনের ভিডিওর সঙ্গে আলোচ্য ভিডিওটির মিল রয়েছে। 

পরবর্তী অনুসন্ধানে প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, নিহত ব্যক্তিরা হলেন নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়নের কারারচর গ্রামের সুজন মিয়ার স্ত্রী সাথী বেগম (২৭) এবং ছেলে হাছেন মিয়া (২)। আন্তনগর কক্সবাজার এক্সপ্রেস নামের ট্রেনের ধাক্কায় কোলে থাকা হাছেনসহ সাথী বেগম ছিটকে পড়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত পান। ৫ বছর বয়সী মেয়ের হাত ধরে বাবা সুজন মিয়া ছিলেন পেছনে।

চার সদস্যের পরিবারটি নরসিংদী রেলস্টেশনে এই দুর্ঘটনার শিকার হন। কাঁধে করে নারী ও শিশু বহনকারী ব্যক্তি, নারীর স্বামী ও শিশুটির বাবা। দেশের মূলধারার সংবাদমাধ্যমে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে এই ঘটনাটিকে ট্রেন দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে, ঘটনাটির সঙ্গে ধর্ষণ ও খুন জড়িয়ে ছড়ানো ফেসবুক পোস্টগুলোকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে ফ্যাক্টওয়াচ।

Claim:
নরসিংদীতে ট্রেনের ভেতরে মাকে ধর্ষণের পরে ছোট বাচ্চাকে হত্যা করা হয়েছে।

Claimed By:
Facebook Users

Rating:
False

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh