ট্রাম্পের নামে প্রচারিত ইউনূস-বিরোধী ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি

20
ট্রাম্পের নামে প্রচারিত ইউনূস-বিরোধী ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি
ট্রাম্পের নামে প্রচারিত ইউনূস-বিরোধী ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি

সম্প্রতি ফেসবুকে প্রফেসর ইউনূসকে নিয়ে সমালোচনা দাবিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি প্রেস ব্রিফিংয়ের  ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে যে, প্রেস ব্রিফিংয়ের এই ভিডিওটি এডিট করা হয়েছে। মূল ভিডিওটি আমেরিকার জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ (Joint Base Andrews) নামক সামরিক বিমান ঘাঁটিতে পৌঁছানোর পর সাংবাদিকদের সাথে ট্রাম্পের কথা বলার সময়কার। সেখানে তিনি ইউনূস বা পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান নিয়ে এ ধরনের কোনো মন্তব্য করেননি। সেই ভিডিওতে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রফেসর ইউনূসের নামে এই ভুয়া অডিওটি বসানো হয়েছে।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া পোস্টে ট্রাম্পের বক্তব্য দাবিতে বলা হচ্ছে, “ডক্টর ইউনুস পাকিস্তানের যুদ্ধ বিমান কিনতে গিয়ে বড় মি/থ্যা/চার করেছে। ইউনুস বলেছে পাকিস্তান থেকে জ/ঙ্গি বিমান কেনা নাকি শেখ হাসিনার চুক্তি ছিল।আমরা নিবিড় ভাবে খোঁজ নিয়ে দেখি এটা শেখ হাসিনার কোনো চুক্তি ছিল না। ইউনুস একজন বড় মাপের বিশ্ব প্র/তা/রক এবং সারা বিশ্বে সে নোবেল বিক্রি করে খাচ্ছে।” (ক্যাপশন অপরিবর্তিত)

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে। 

ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানঃ 

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি থেকে বিভিন্ন কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে News18 এর ফেসবুক পেজে ২০২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি আপলোডকৃত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়।  ভিডিওটির বিভিন্ন কি-ফ্রেমের সাথে রিভার্স ইমেজ সার্চের সময় ব্যবহৃত কি-ফ্রেম মিলে যায়। ভিডিওর ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়, “ডেনমার্কের কাছে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করে বলেছেন, ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এটি একটি বড় সমস্যা।”(অনুবাদিত)

এরপরে, প্রাসঙ্গিক কিছু কি-ওয়ার্ড ধরে সার্চ করে এই প্রেস ব্রিফিংয়ের সম্পূর্ণ ভিডিও এবং ট্রান্সক্রিপ্ট খুঁজে পায় ফ্যাক্টওয়াচ টিম। এগুলো পর্যালোচনা করে সেখানে মুহাম্মদ ইউনূস, শেখ হাসিনা এবং পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান সম্পর্কে কোনো কথার উল্লেখ পাওয়া যায়নি। ডোনাল্ড ট্রাম্প সেখানে মূলত অর্থনৈতিক সাফল্য, ইরান, চীন, গ্রিনল্যান্ড, মিনেসোটা, অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়া শহর, স্বাস্থ্যসেবা এবং বিভিন্ন বিনিয়োগসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছিলেন।

অন্যদিকে, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি খেয়াল করলে কিছু ভিজ্যুয়াল ত্রুটি দেখতে পাওয়া যাবে। সেই ত্রুটিগুলো সাধারণত এআই নির্মিত কন্টেন্টে দেখা যায়। এর কিছু নমুনা নিম্নরূপঃ 

১- মূল ভিডিওতে পিছনে থাকা হেলিকপ্টারটি স্থির ছিল, কিন্তু ভাইরাল ভিডিওতে হঠাৎ সেটির পাখা ঘুরতে শুরু করে। 

২- ভিডিওতে হেলিকপ্টারের পাখা ঘুরতে দেখা গেলেও কোনো ইঞ্জিনের শব্দ নেই। 

৩ -ট্রাম্পের কণ্ঠস্বরে যে শব্দগুলো শোনা যাচ্ছে, সেগুলোর সাথে তার ঠোঁট নাড়াচাড়ার কোনো সঠিক মিল নেই।

পরবর্তীতে এআই ডিটেকশন টুল ‘ডিপফেক ও মিটার’ দিয়ে ভিডিওটি যাচাই করা হয়। টুলটি বিভিন্ন মডেলের সাহায্যে অডিওটি বিশ্লেষণ করে জানায়, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি। মূল ভিডিওর অডিও সরিয়ে দিয়ে এআই দিয়ে তৈরি অডিও যুক্ত করে ভাইরাল ভিডিওটি বানানো হয়েছে।  পাশাপাশি এআই এর সাহায্যে ট্রাম্পের অঙ্গভঙ্গিরও পরিবর্তন আনা হয়েছে। 

Hive Moderation এর সাহায্যে ভিডিওটিকে যাচাই করেও একই তথ্যা জানা যায়। 

সুতরা, সবকিছু বিবেচনা করে ফ্যাক্টওয়াচ ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিকে বিকৃত হিসেবে চিহ্নিত করেছে। 

No Factcheck schema data available.

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh