সম্প্রতি ফেসবুকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে। সেখানে তার বক্তব্য দাবিতে বলা হচ্ছে, "ইউনুস এমন কাজ করেছে দেশ থেকে এখন তাকে পালিয়ে যেতে হবে। কারণ বাংলার জনগণ সেন্টমার্টিন আমেরিকাকে নিতে দিবে না।" কিন্তু ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে যে, ট্রাম্পের এই ভিডিওটি এডিট করা হয়েছে। ভিডিওটি মূলত এনবিসি নিউজকে দেওয়া ট্রাম্পের এক সাক্ষাৎকারের। ২০১৭ সালে সাংবাদিক লেস্টার হোল্ট (Lester Holt) সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন যেখানে তিনি ড. ইউনূস সম্পর্কে কোনো বক্তব্য দেননি৷ মূল ভিডিওতে এআই দিয়ে তৈরি অডিও যুক্ত করে বিকৃত করা হয়েছে৷
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি থেকে বিভিন্ন কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে VOX নামের একটি অনলাইন পোর্টালে ২০১৭ সালের ১২ মে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট খুঁজে পাওয়া যায়। এই রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত ছবির সাথে রিভার্স ইমেজ সার্চের সময় ব্যবহৃত কি-ফ্রেম মিলে যায়। এই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় ২০১৬ সালের মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রচারণার সাথে রাশিয়ার কথিত সংযোগের তদন্ত করেছিল এফবিআই। তদন্তের নেতৃত্ব দেওয়ায় তৎকালীন এফবিআই পরিচালক জেমস কোমিকে (James Comey) বরখাস্ত করেন ট্রাম্প। রিপোর্টটিতে এই সকল তথ্যের সোর্স হিসেবে এনবিসির সাংবাদিক লেস্টার হোল্টকে (Lester Holt) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারের কথা উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তীতে প্রাসঙ্গিক কিছু কি-ওয়ার্ড ধরে সার্চ করে এনবিসির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট এবং ইউটিউব চ্যানেলে ২০১৭ সালের ১২ মে প্রকাশিত সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকারের ভিডিও পাওয়া যায়। সেখানেও ট্রাম্প তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের সুপারিশ সত্ত্বেও এফবিআই পরিচালক জেমস কোমিকে বরখাস্ত করার সম্পর্কে বলছিলেন। এছাড়াও Roll Call এর ওয়েবসাইটে এই সাক্ষাৎকারের সম্পূর্ণ প্রতিলিপি প্রকাশিত হয় যেখানে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, মূল ভিডিওতে থাকা অডিওর সাথে ভাইরাল ভিডিওর অডিওটি ভিন্ন। তাই ফেসবুক থেকে এসব পোস্টের ভিডিও ডাউনলোড করে এআই ডিটেকশন টুল ‘ডিপফেক ও মিটার’ দিয়ে যাচাই করা হয়। টুলটি বিভিন্ন মডেলের সাহায্যে বিশ্লেষণ করে জানায়, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি। মূল ভিডিওর অডিও সরিয়ে দিয়ে এআই দিয়ে তৈরি ভিন্ন অডিও যুক্ত করে ভাইরাল ভিডিওটি বানানো হয়েছে।
এছাড়া, ফ্যাক্টওয়াচের বিশ্লেষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এমন অনেক টুল পাওয়া যায়, যেসব টুলের মাধ্যমে এমন অডিও বানানো সম্ভব।
সুতরা, সবকিছু বিবেচনা করে ফ্যাক্টওয়াচ ভাইরাল হওয়া পোষ্টগুলোকে বিকৃত হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
Claim: সম্প্রতি ফেসবুকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে। সেখানে তার বক্তব্য দাবিতে বলা হচ্ছে, "ইউনুস এমন কাজ করেছে দেশ থেকে এখন তাকে পালিয়ে যেতে হবে। কারণ বাংলার জনগণ সেন্টমার্টিন আমেরিকাকে নিতে দিবে না।"
Claimed By: Facebook users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh