ঢাবি ভিসি হিজাব বাধ্যতামূলক করেননি 

240
ঢাবি ভিসি হিজাব বাধ্যতামূলক করেননি 
ঢাবি ভিসি হিজাব বাধ্যতামূলক করেননি 

সম্প্রতি ফেসবুকে কিছু পোস্টে দাবি করা হচ্ছে যে, মেয়েদের জন্য হিজাব বাধ্যতামূলক করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়াজ আহমদ খানের বরাতে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরেও এই ভিত্তিহীন তথ্যটি ছড়িয়ে পড়ে।

এ ধরণের পোস্টগুলোর কয়েকটি এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে। 

প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড অনুসন্ধানে সাম্প্রতিক সময়ে ঢাবি ভিসি নিয়াজ আহমদ খানকে নারী শিক্ষার্থীদের হিজাব বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেছেন বলে জানা যায় না। মূলধারার সংবাদ মাধ্যমে এ সংক্রান্ত কোনো প্রতিবেদন অথবা হিজাব বাধ্যতামূলক করার প্রতিবাদে কোথাও কোনো সমাবেশ হয়েছে বলেও জানা যায় না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়াবসাইটেও হিজাব সংক্রান্ত কোনো ঘোষণা সাম্প্রতিক সময়ে দেওয়া হয়নি। 

গত বছরের সেপ্টেম্বরেও ঢাবিতে হিজাব বাধ্যতামূলক করা নিয়ে ফেসবুকে গুজব ছড়িয়েছিল। 

হিজাব বাধ্যতামূলক করা সংক্রান্ত ফেসবুক পোস্টগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সবগুলো পোস্টেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে ‘নতুন ভিসি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, বর্তমান ভিসি নিয়াজ আহমদ খান নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন  গত বছরের ২৭ আগস্ট। সেই হিসেবে তাকে নতুন করে নতুন ভিসি বলার যৌক্তিকতা নেই। 

ভিসি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বগ্রহণের পর হিজাব ইস্যুতে এর আগেও নানা ধরণের আলোচনা- সমালোচনা হতে দেখা গেছে। এ বছরের ৬ মার্চ প্রথম আলোতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, নিকাব ও হিজাব পরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের পরিচয় শনাক্তকরণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও গোপনীয়তা বিবেচনায় রেখে নারী শিক্ষক, নারী কর্মকর্তা ও নারী কর্মচারীদের মাধ্যমে এটি করা হবে। উপাচার্যের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ডিনস কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছাত্রীদের পরিচয় শনাক্তকরণের জন্য প্রয়োজনে নারী সহকারী প্রক্টরের সহযোগিতা নেওয়া হবে। পরিচয় শনাক্তকরণের জন্য বায়োমেট্রিক সিস্টেম চালুর সম্ভাব্যতার বিষয়টি যথাসময়ে যাচাই করা হবে বলেও জানানো হয়। 

এর আগে ২০২৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে পরীক্ষা ও প্রেজেন্টেশন চলাকালে প্রত্যেক ছাত্রীর কানসহ মুখ খোলা রাখার নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকে ড্রেসকোড নিয়ে বিতর্কের জের ধরে ঢাবিতে হিজাব ইস্যুতে নতুন করে গুজব আকারে এই তথ্য ছড়িয়ে থাকতে পারে। 

মূলধারার সংবাদমাধ্যম কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অথবা কোন দায়িত্বশীল মাধ্যম থেকে এই ধরণের কোনো তথ্য না পাওয়ায় ঢাবি ভিসির হিজাব বাধ্যতামূলক করার ভিত্তিহীন তথ্যটিকে ‘মিথ্যা’ সাব্যস্ত করা হলো।

Claim:
মেয়েদের জন্য হিজাব বাধ্যতামূলক করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি।

Claimed By:
Facebook Users

Rating:
False

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh