ফেসবুকে ১৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, গতকাল রাতে রাজধানীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের পর রাস্তার পাশে ফেলে গেছে দুর্বৃত্তরা। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি ভিন্ন ঘটনার। মূলত, গত ১৩ সেপ্টেম্বর জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে পারিবারিক কলহের জেরে নওরীন নামে ওই তরুণীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এই হামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে নওরীনের আপন মামা ও তার কিছু আত্মীয় রয়েছে। এ ছাড়া নওরীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীও নন। তিনি চট্টগ্রামের একটি কলেজের স্নাতকের শিক্ষার্থী।
দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে চট্টলচিত্র নামের একটি ওয়েবসাইটে নওরীনের আহত হওয়ার ছবিটি পাওয়া যায়। এই ছবিটিই রাজধানীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের পর রাস্তার পাশে ফেলে যাওয়ার দাবিতে প্রচার হচ্ছে।ওয়েবসাইটটিতে গত সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) নওরীনের ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়।
এতে বলা হয়, চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানার ৪নং ওয়ার্ডে নওরিন সুলতানা (২৪) ও তার পরিবারের ওপর নৃশংস সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় নওরিন, তার মা ও ভাই গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। নওরিন সুলতানা কাপাসগোল সিটি কর্পোরেশন মহিলা কলেজের বিবিএ (অনার্স) চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। গত ১৩ সেপ্টেম্বর এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনা নিয়ে গত ১৭ সেপ্টেম্বর (বুধবার) চান্দগাঁও থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়।
পরবর্তীতে আরও খুঁজে ফেসবুকে আয়দা নূরা (Aydaa Nora) নামের একটি অ্যাকাউন্টের একটি পোস্টে গণধর্ষণের দাবিতে প্রচারিত ছবিগুলো পাওয়া যায়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর (রোববার) পোস্টটি দেওয়া হয়।
এতে ঘটনাটির বিস্তারিত তুলে ধরে উল্লেখ করা হয়, ‘গতকাল (১৩/০৯/২৫) সন্ধ্যা সাতটার সময় আমাকে খুন করার উদ্দেশ্যে আমার নিজ আপন মামা এবং কিছু কাজিনদের সাথে নিয়ে হুট করে অতর্কিত হামলা চালায়, আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার জন্য। গতকাল সন্ধ্যায় হামলা করার আগের রাতেও (১২/০৯/২৫ তারিখ রাত ১১ টার দিকে) আমাকে চুল ধরে টানাটানি করে মারছিল। যার কারণে সেদিন রাতেই আমি থানায় অভিযোগ করেছিলাম নিরাপত্তাহীনতার জন্য। দুপুরে পুলিশ এসে ঘটনা তদন্ত করার কথা থাকলেও আসেনি। সেই রাত পার হয়ে এবং গতকাল দিন পার হয়ে সন্ধ্যা সাতটায় আমার মামা কিছু দল গঠন করে সন্ধ্যায় আমার উপর হামলা চালায়। আমি কেন জিডি করছি, আমাকে এই বাড়িতে আর থাকতে দিবে না। মারতে মারতে মারি ফেলবে, তারপরেও জিডি বা আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারব না। নিলেই মেরে ফেলবে আমাকে এসব হুমকি দেয়। আমি এসব হুমকি তোয়াক্কা না করলে তখনই আমাকে খুন করে মেরে ফেলার সর্বোচ্চ চেষ্টা শুরু করে। মাঝখান দিয়ে লোডশেডিংয়ের অন্ধকারের সুযোগে সাথে সাথে দুই সেকেন্ড না হতেই কোথায় থেকে ইট মেরে আমার মাথায় কেমন জখম করছে ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন।’
পরে ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে ফ্যাক্টওয়াচ থেকে চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানায় দায়ের করা এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইমামুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি জানান, নওরীনের ঘটনাটি সম্পত্তি দখল নিয়ে পারিবারিক কলহের ঘটনা। এর সঙ্গে ধর্ষণের কোনো সম্পর্ক নেই। এমন দাবি গুজব।
তিনি আরও জানান, নওরীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন। তিনি চট্টগ্রামের একটি কলেজের শিক্ষার্থী।
সার্বিক বিবেচনায় ফ্যাক্টওয়াচ ঢাবি শিক্ষার্থীকে গণধর্ষণের পর রাস্তার পাশে ফেলে রাখার দাবিতে প্রচারিত ভিডিওগুলোকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে।
Claim: ফেসবুকে ১৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, গতকাল রাতে রাজধানীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের পর রাস্তার পাশে ফেলে গেছে দুর্বৃত্তরা।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh