কালের কণ্ঠের আদলে একটি ফটোকার্ড ফেসবুকে শেয়ার করা হচ্ছে। ফটোকার্ডে লেখা, গোপালগঞ্জে পুলিশের গাড়িতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এবং বামজোটের জঙ্গি হামলায় গর্ভবতী পুলিশসহ নিহত চার। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, কালেরকণ্ঠ এ ধরণের কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি এবং গোপালগঞ্জে গত ১৬ জুলাই গর্ভবতী পুলিশ নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ফেসবুকে ফটোকার্ডটি শেয়ার করা হয়েছে বিভিন্ন ক্যাপশনে।
এমডি হামিদুল নামের আইডি থেকে ফটোকার্ডটি শেয়ার করা হয়েছে এই ক্যাপশনেঃ
“গোপালগঞ্জে পুলিশের গাড়িতে জঙ্গি হামলা, গর্ভবতী মহিলা পুলিশসহ নিহত ৪। গর্ভবতী মহিলা পুলিশকে হাসপাতালের নেয়ার সময় ছাত্রলীগ, রেডটের ও ইসকনের জঙ্গিরা চারদিক থেকে বোমা ককটেল নিয়ে মুহুর্মুহু হামলা চালায়, মুহুর্তে আগুন ধরে গর্ভবতী মহিলা পুলিশসহ ঘঠনা স্থলেই প্রাণ হারায় ৪ পুলিশ।”
ফিরোজ আহমেদ নামের আইডি থেকে শেয়ার হয়েছে এই ক্যাপশনে – “গোপালগঞ্জে পুলিশের গাড়িতে ছাত্রলীগ-বামজোটের জঙ্গি হামলায় গর্ভবতী মহিলা পুলিশসহ ৪ জন নিহত হয়েছে। বিমান হামলা ও ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণ করে গোপালগঞ্জ কবরস্থানে পরিণত করা হোক। সোর্স- কালের কণ্ঠ।”
২০২৫ সালের ১৬ জুলাই এনসিপির নেতাদের গোপালগঞ্জ সফরকে কেন্দ্র করে সহিংস ঘটনার পর ফটোকার্ডটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধান
অনুসন্ধানে দেখা যায়, কালের কণ্ঠ গোপালগঞ্জ সহিংসতা নিয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, সেটির শিরোনাম- গোপালগঞ্জ রণক্ষেত্র, নিহত ৪। এই প্রতিবেদনে তারা নিহত চারজনের পরিচয়ে লিখেছে, নিহতরা হলেন—গোপালগঞ্জ শহরের উদয়ন রোডের বাসিন্দা সন্তোষ সাহার ছেলে দীপ্ত সাহা (২৫), কোটালীপাড়ার রমজান কাজী (১৮), টুঙ্গীপাড়ার সোহেল মোল্লা (৪১) ও সদর উপজেলার ভেড়ার বাজার এলাকার ইমন (২৪)। প্রতিবেদনের কোথাও গর্ভবতী পুলিশের নিহত হওয়ার তথ্য দেয়নি।
ফলে মূল প্রতিবেদনের বক্তব্যের বাইরে গিয়ে ভিন্ন শিরোনামে ফটোকার্ড প্রচারের যৌক্তিকতা নেই।
ফটোকার্ডটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে। কালের কণ্ঠের ফেসবুক পেজ এবং ওয়েবসাইটে অনুসন্ধান করে এই ফটোকার্ড বা সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এছাড়া ফটোকার্ডটিতে একাধিক বানান ভুল রয়েছে। যেমন ‘গর্ভবতি’ এবং ‘পুলিশ সহ’।
প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড অনুসন্ধানে মূলধারার সংবাদমাধ্যমে ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জের সহিংসতার বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনগুলো দেখুন, এখানে, এখানে, এখানে।
সবগুলো প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে নিহতের পরিচয়ের অভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। কোনো প্রতিবেদনেই নারী পুলিশ নিহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায় না।
অতএব, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনসূত্রে ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে কোনো নারী পুলিশ নিহত হননি।
সঙ্গত কারণে ফেসবুকে শেয়ার হওয়া কালেরকণ্ঠের আদলের ফটোকার্ডটিকে ভুয়া এবং এটিতে সংযোজিত ভিত্তহীন তথ্যকে ‘মিথ্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হলো।
Claim: কালের কণ্ঠের আদলে একটি ফটোকার্ড ফেসবুকে শেয়ার করা হচ্ছে। ফটোকার্ডে লেখা, গোপালগঞ্জে পুলিশের গাড়িতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এবং বামজোটের জঙ্গি হামলায় গর্ভবতী পুলিশসহ নিহত চার।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh