সম্প্রতি ফেসবুকে ‘শিক্ষামন্ত্রী নিজ এলাকায় জনগণের তীব্র তোপের মুখে, ভেঙেছে মন্ত্রীর গাড়ি’ শিরোনামে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এর মাধ্যমে ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে যে, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের গাড়িতে সাম্প্রতিক সময়ে তার নিজ এলাকার স্থানীয় জনগণ হামলা চালিয়েছে। তবে ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারিত ভিডিওটি সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার নয়। এটি ২০২২ সালের একটি পুরোনো রাজনৈতিক সংঘাতের দৃশ্য। তাছাড়া ২০২২ সালে যখন ঘটনাটি ঘটে, তখন তিনি শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন না।
অনুসন্ধানে প্রচারিত ভিডিওটির উৎস খুঁজে পাওয়ার জন্য এর বিভিন্ন কি-ফ্রেম ব্যবহার করে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। এর ফলে BanglaVision-এর ফেসবুক পেজে ভাইরাল ভিডিওটির অনুরূপ একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ২০২২ সালের ২৬ এপ্রিল আপলোডকৃত ভিডিওটি থেকে জানা যায়, ঘটনাটি চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার।
২০২২ সালের ২৫ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কচুয়া উপজেলার বদরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন সড়কে এই ঘটনা ঘটে। এই একই দিনে বিদ্যালয় মাঠে ইফতার মাহফিলের আয়োজনের ঘোষণা দেয় স্থানীয় বিএনপি এবং ছাত্রলীগ। সংঘাত এড়াতে দুই পক্ষকেই ওই স্থানে কর্মসূচি পালনে নিষেধ করে পুলিশ। এ অবস্থায় পার্শ্ববর্তী হোসেনপুর ঈদগাহ মাঠে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে স্থানীয় বিএনপি। প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলঘ্ন সড়ক দিয়ে এহছানুল হক মিলন বিএনপির ইফতার মাহফিলে যাওয়ার সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বাধার সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে তার গাড়ির পেছনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। ঘটনার পর তিনি ইফতার মাহফিলে অংশ না নিয়ে পার্শ্ববর্তী হোসেনপুর এলাকায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়ে ঢাকায় ফিরে যান।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে যখন ঘটনাটি ঘটেছিল, তখন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষামন্ত্রী বা সরকারি কোনো পদে সমাসীন ছিলেন না। তিনি মূলত ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। সুতরাং, ২০২২ সালের এপ্রিল মাসের এই পুরোনো ভিডিওটিকে মিথ্যা ক্যাপশনে শিক্ষামন্ত্রীর ওপর সাম্প্রতিক হামলার দাবি হিসেবে প্রচার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
পরবর্তী বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম (Siddique Nazmul Alam)-এর ফেসবুক প্রোফাইল থেকে ২৪ আগস্ট উক্ত ক্যাপশন যুক্ত করে ভিডিওটি শেয়ার করা হয়। এরপরে তা বিভিন্ন প্রোফাইল থেকে তা ছড়াতে থাকে। একপর্যায়ে তিনি এডিট করে একটি ব্যাখ্যা যুক্ত করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ আমলের সাথে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করতেই পুরোনো ভিডিওটি ব্যবহার করা হয়েছে। অপরদিকে, গফরগাঁও উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক পরিচয়ধারী M A Kausar-এর ফেসবুক প্রোফাইল থেকেও একই ক্যাপশনযুক্ত ভিডিও শেয়ার করা হয় এবং পরবর্তীতে তিনিও পোস্টের এডিট হিস্টোরি অনুযায়ী সম্পাদিত লেখাটি কপি করে আপডেট করেন। অর্থাৎ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষকে হেয় প্রতিপন্ন করতে শুরুতেই এই বিভ্রান্তিকর পোস্ট শেয়ার করা হয়েছিল।
তবে ক্যাপশন এডিট করার পরও কমেন্ট সেকশনে সাধারণ ব্যবহারকারীরা বিষয়টিকে সাম্প্রতিক ঘটনা হিসেবে ধরে নিয়েছেন। পাশাপাশি বিভ্রান্তিকর তথ্য বিশ্বাস করে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। এর কিছু নমুনা নিম্নরূপঃ
সুতরাং, সবকিছু বিবেচনা করে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সাথে সংশ্লিষ্ট দাবিকে ফ্যাক্টওয়াচ বিভ্রান্তিকর হিসেবে সাব্যস্ত করয়েছে।
Claim: শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন নিজ এলাকায় জনগণের তীব্র তোপের মুখে, ভেঙেছে মন্ত্রীর গাড়ি।
Claimed By: Facebook users
Rating: Mostly false
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh