‘কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে রাজনৈতিক সদিচ্ছার চেয়ে সামাজিক আন্দোলনই অধিক কার্যকর’ শীর্ষক ছায়া সংসদের আয়োজন করেছে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। গতকাল শুক্রবার এফডিসিতে এই বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। এই অনুষ্ঠানে তার একটি বক্তব্য ঘিরে ফেসবুকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ওপর ফেইক নিউজ লোগো ব্যবহার করে দাবি করা হচ্ছে, তিনি এমন বক্তব্য দেননি। চিফ হুইপের আলোচিত বক্তব্যটি হলো, ‘ইউটিউব-ফেসবুক দেশের ক্ষতির অন্যতম কারণ, রাশ টানা হবে।’ বিএনপির মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকেও প্রায় একই দাবি করা হচ্ছে। পেইজটি থেকে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, ‘চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির বক্তব্যকে বিকৃত করে উপস্থাপন করেছে বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম। পরে সেই বক্তব্যকে আরও বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে গুজব সৃষ্টিকারীরা।’ ফ্যাক্টওয়াচের যাচাইয়ে দেখা যায়, চিফ হুইপ আলোচিত মন্তব্যটি করেছেন।
দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে যমুনা টিভির ইউটিউব চ্যানেলে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির বক্তব্যটি পাওয়া যায়।
এটির ৩ মিনিট ২০ সেকেন্ড অংশে তিনি বলেন, ‘…আপনাদের মাধ্যমে আমি দেশবাসীকে জানাতে চাই আমাদের ইউটিউব, ফেসবুক আমাদের ক্ষতির অন্যতম বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন। অন্যতম বড় কারণ। আপনারা বিশ্বাস করেন কি না জানি না, তবে এটাই অন্যতম একটা বড় কারণ। আমরা চেষ্টা করবো এটার রাশ টেনে ধরতে, লাগাম টেনে ধরতে। এ ব্যাপারে সরকার সচেষ্ট আছে। হোপফুলি আমরা খুব শীঘ্রই এ ব্যাপারে একটা পরিস্থিতি তৈরি করতে পারবো। যাতে আমরা… এই কিশোররা যাতে এই রকম পরিবেশ-পরিস্থিতির মুখোমুখি না হয় এবং তার থেকে যেন খারাপ কিছু শিখতে না পারে, না শেখে, সেরকম একটা চেষ্টা করবো।’
বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে ইংরেজি দৈনিক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের একটি ফটোকার্ড ও চ্যানেল২৪-এর একটি প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট শেয়ার করে দাবি করা হয়েছে, চ্যানেল২৪ এর প্রতিবেদনটি মিসলিডিং বা বিভ্রান্তিকর। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনের শিরোনাম, ‘ইউটিউব-ফেসবুক দেশের ক্ষতির অন্যতম কারণ, রাশ টানা হবে: চিফ হুইপ।’
যমুনা টিভির ফেসবুক পেজে একই অনুষ্ঠানে চিফ হুইপের পুরো বক্তব্যের লাইভ পাওয়া যায়। সেখানেও ১৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড পরে তাকে ফেসবুক-ইউটিউব প্রসঙ্গে একই বক্তব্য দিতে শোনা যায়।
অর্থাৎ চিফ হুইপ ফেসবুক-ইউটিউবকে ক্ষতির অন্যতম কারণ উল্লেখ করে এগুলোর রাশ বা লাগাম টেনে ধরার কথা বলেছেন।
প্রসঙ্গত, একই বক্তব্যে ভিন্ন ভিন্ন অন্তত দুই জায়গায় নুরুল ইসলাম মনি অশ্লীল ভাষা ব্যবহার নিয়ে সতর্ক করে মন্তব্য করেছেন। তবে এসব মন্তব্যের সঙ্গে সরাসরি ফেসবুক-ইউটিউবকে যুক্ত করেননি।
ফলে এটি নিশ্চিত হওয়া যায়, নুরুল ইসলাম মনি এই বক্তব্য দিয়েছেন। এটি কোনো বিভ্রান্তিকর বা ভুয়া তথ্য নয়। তাই এই ধরনের পোস্টগুলোকে ফ্যাক্টওয়াচ মিথ্যা হিসেবে রেট করছে।
Claim: চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি'র একটি বক্তব্য ঘিরে ফেসবুকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ওপর ফেইক নিউজ লোগো ব্যবহার করে দাবি করা হচ্ছে, তিনি এমন বক্তব্য দেননি। চিফ হুইপের আলোচিত বক্তব্যটি হলো, ‘ইউটিউব-ফেসবুক দেশের ক্ষতির অন্যতম কারণ, রাশ টানা হবে।’
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh