সম্প্রতি ফেসবুকে জাতিসংঘের (UN) লোগো সম্বলিত একটি ইনফোগ্রাফ বা তথ্যচিত্র ছড়িয়ে পড়ছে। দাবি করা হচ্ছে যে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে আন্দোলনের মূল সময়ে মাত্র ৪০০ জন মারা গেছেন এবং সরকার পতনের পর (৭ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত) সবচেয়ে বেশি ৭৫০ জন মারা গেছেন। আন্দোলনে মৃত্যুর সংখ্যায় সবচেয়ে বড় অংশ ছিল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য- এই দাবির প্রমাণ হিসেবে ইনফোগ্রাফটি শেয়ার করা হচ্ছে। তবে ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা গেছে এই দাবিটি ভিত্তিহীন। জাতিসংঘের লোগো ব্যবহার করে এই ভুয়া তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে। সংস্থাটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এমন কোনো পরিসংখ্যানের উল্লেখ নেই।
ভাইরাল এই ইনফোগ্রাফটি সম্পর্কে বিস্তারিত অনুসন্ধান করা হলে, নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্র থেকে এমন কিছু খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (OHCHR) ওয়েবসাইটেও এমন কিছু খুঁজে পাওয়া যায়নি। সেখানে জুলাই অভ্যুত্থান ২০২৪ সম্পর্কে একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্ট পাওয়া যায়। এই মূল রিপোর্ট থেকে ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় নিহত মানুষের সংখ্যা হিসেবে ১,৪০০ জনের উল্লেখ পাওয়া যায়। নিহতদের একটি বিশাল অংশই তৎকালীন সরকারের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সরাসরি গুলিতে (রাইফেল ও শটগান) মারা গেছেন বলে সেখানে বলা হয়। জাতিসংঘের অফিসিয়াল কোনো নথিতে আন্দোলনের মূল সময়ে মাত্র ৪০০ জন মারা যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
উক্ত পোস্টে আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে বিপুল সংখ্যক আওয়ামী লীগ সমর্থক মারা যাওয়ার যে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা দাবি করা হয়েছে, তার কোনো ভিত্তি জাতিসংঘের রিপোর্টে নেই। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জাতিসংঘকে ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে তাদের ১৪৪ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক নিহত হওয়ার একটি তালিকা দেওয়া হয়েছিল। তবে জাতিসংঘ তাদের প্রতিবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ করেছে, তারা এই সংখ্যার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই (Independent verification) করেনি।
তবে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ পুলিশের দেওয়া তথ্যের বরাতে জানানো হয়েছে যে, ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত পুরো সহিংসতায় সর্বমোট ৪৪ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য বাহিনীর (বিজিবি, আনসার ও র্যাব) কয়েকজন সদস্যের মৃত্যুর কথাও এতে উল্লেখ আছে।
উল্লেখ্য, ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর সাবেক ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী, পুলিশ ও কিছু গণমাধ্যমের ওপর প্রতিশোধমূলক হামলা ঘটে। ক্ষুব্ধ জনতা বিভিন্ন থানা, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর করে। সাবেক সরকারের প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে কিছু সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়েও হামলা হয়। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বিষয়টিকে “Revenge abuses” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ, জাতিসংঘের নথিতে আন্দোলনের মূল সময়ে মাত্র ৪০০ জন মারা যাওয়ার কথা বলা হয়নি।
এ ছাড়া জাতিসংঘের অন্য কোনো রিপোর্টে জুলাই অভ্যুত্থান সংক্রান্ত অন্য কোনো তথ্যচিত্র পাওয়া যায়নি। তাই এমন দাবিতে শেয়ার করা পোস্টগুলো ফ্যাক্টওয়াচ মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে।
Claim: ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে আন্দোলনের মূল সময়ে মাত্র ৪০০ জন মারা গেছেন এবং সরকার পতনের পর (৭ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত) সবচেয়ে বেশি ৭৫০ জন মারা গেছেন।
Claimed By: Facebook users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh