চাঁদাবাজির দায়ে আটক ব্যক্তিকে পুলিশ সদস্য বলে প্রচার

13
চাঁদাবাজির দায়ে আটক ব্যক্তিকে পুলিশ সদস্য বলে প্রচার
চাঁদাবাজির দায়ে আটক ব্যক্তিকে পুলিশ সদস্য বলে প্রচার

সম্প্রতি ফেসবুকে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ব্যাকগ্রাউন্ডসহ একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ছে। সেখানে দাবি করা হচ্ছে যে, "পুলিশ হত্যার বিচার চাওয়ায় এক পুলিশ সদস্যকে আটক করা হয়েছে।" ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে গ্রেপ্তারকৃত এই ব্যক্তি কোনো আসল পুলিশ সদস্য নন। তাকে পুলিশের ভুয়া বেশ ধরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করা হয়।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এবং এখানে। 

ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধান:

​ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবিটি সম্পর্কে জানার জন্য রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। এর ফলে সময় টিভির ওয়েবসাইটে উক্ত ছবির অনুরূপ ছবি পাওয়া যায়। সময় টিভিতে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আটক হওয়া ওই ভুয়া পুলিশের নাম মো. আতিক উল্লাহ আল মামুন (৪০), যিনি কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের পূর্ব ডিগলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। গত ২৩ মে দিবাগত রাত ১২টার দিকে তাকে আটক করার পর তার কাছ থেকে পুলিশের ইউনিফর্ম ও একটি হ্যান্ডকাফ ছাড়াও ‘সাইফুল ইসলাম মিজান’ এবং ‘মো. মিজান’ নাম লেখা দুটি নেমপ্লেট জব্দ করা হয়।

এই ঘটনা সম্পর্কে প্রথম আলোমিরর নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়, কক্সবাজারের বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়াম এলাকার আশেপাশে বেশ কয়েকটি হাসপাতাল রয়েছে। এই হাসপাতালগুলোর কারণে গভীর রাত পর্যন্ত সড়কটিতে রোগী বহনকারী বিভিন্ন যানবাহনের প্রচণ্ড চাপ থাকে। আর এই বিশেষ পরিস্থিতি বা সুযোগটিকে কাজে লাগিয়েই ওই ব্যক্তি পুলিশের বেশ ধরে সেখানে দীর্ঘক্ষণ ধরে যানবাহন তল্লাশি করছিলেন এবং অনৈতিক সুবিধা বা চাঁদা আদায় করছিলেন। পরবর্তীতে পুলিশের নিয়মিত টহল দলের জেরার মুখে তার এলোমেলো কথাবার্তায় ভুয়া পরিচয়ের বিষয়টি ধরা পড়ে।

​অর্থাৎ, ঘটনাটি সম্পূর্ণরূপেই পুলিশের ছদ্মবেশে চাঁদাবাজির একটি অপরাধমূলক মামলা। এর সাথে ফেসবুকে দাবি করা ‘পুলিশ হত্যার বিচার চাওয়া’ বা এই সংক্রান্ত কোনো প্রতিবাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

​তাই সবকিছু বিবেচনা করে ফ্যাক্টওয়াচ এই পোস্টগুলোকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। 

Claim:
পুলিশ হত্যার বিচার চাওয়ায় এক পুলিশ সদস্যকে আটক করা হয়েছে

Claimed By:
Facebook Users

Rating:
False

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh